দেশের মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: বেগম খালেদা জিয়া

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- দেশের মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘সীমান্তে ফেলানীর লাশ ঝুলছে, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো জাবাব কিংবা প্রতিবাদ জানায়নি। আসলে দেশের মানচিত্র বদলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এখন দেশ বাঁচাতে আমাদের সবাইকে আরেকটা সংগ্রাম করতে হবে। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অত্যাচারী-স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না, তরুণ প্রজন্ম আপনাদের সাথে আছে, তারা দেশকে ভালোবাসে। সবাইকে সাথে নিয়ে আরেকটা যুদ্ধ করতে হবে, ইতিমধ্যে আমরা তা শুরু করেছি। আপনারা এগিয়ে আসুন।’

তিনি বলেন, ৭২-৭৫ যে অবস্থা ছিল, এখন আবার দেশ সেই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে ওই সময় একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণ তা হতে দেয়নি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা বিশ্বাস করে না। তারা তাদের বিদেশি প্রভুদের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা রণাঙ্গণে যুদ্ধে করেছে, তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। বিদেশে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই আওয়ামী লীগ ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ওই সময় আওয়ামী লীগের লোকজন শুধু হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা ব্যাংক ডাকাতি পর্যন্ত করেছে। শেখ মুজিব তখন বলেছিলেন- সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কিসের জন্য আবুলদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে? তারা দুদকের দুর্নীতি মামলা থেকে বাদ যাবে কেন? কান-টানলে মাথা আসবে সেই জন্যই তারা আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে না।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকার নাকি বলেছে- তারা আবুলদের বিরুদ্ধ মামলা দিবে যদি বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ দেয়। তার মানে পরিষ্কার যে, এরা দুর্নীতিবাজ।’

সরকার চোরদের বাঁচাতে ব্যস্ত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের আশেপাশে যারা আছে সব চোর। তাদের উপদেষ্টা, এমপি ও মন্ত্রীরা কেউই দুর্নীতি মুক্ত নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকারের আত্মীয়-স্বজন চোর, তিনি নিজেও চোর। এ চোরদের দ্বারা কি দেশের উন্নয়ন সম্ভব? তাদের কারণে হলমার্কের মত ঘটনা ঘটেছে।’

‘ভিওআইপি ব্যবসার নামে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। ইনশাল্লাহ, একদিন এই চোরদের বিচার করা হবে’ যোগ করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিশ্বজিৎ হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলছেন। কারণ ছাত্রলীগ-যুবলীগ ধরা পড়লে বলবে- আমাদের কী দোষ? আমাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমরা তাই করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সিরাজ সিকদারসহ ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। একদিন এর বিচার বাংলার মাটিতে হবে। তারা খুনিদের মাফ করে দেয়, আর আমাদের নির্দোষ নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে করাগারে পাঠায়।’

বিরোধীদলীয় নেতা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানে আসার কারণে আপনাদের কারো যদি নাম কেটে দেয়া হয়, তাহলে তা আবার যোগ করে দেয়া হবে। ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হলে, তা পুনরায় চালু করা হবে। ক্ষমতায় গেল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।’

এ সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই এ দেশে নির্বাচন হবে।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যত মামলা দেন গ্রেপ্তার করেন কোনো লাভ হবে না, প্রতিনিয়ত ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার বাড়ছে। এখন আরো বিয়োগের সময় নেই, এখন যতই গ্রেপ্তার করেন শুধু যোগই হবে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম জাতিসংঘে নাকি প্রধানমন্ত্রীর শান্তির মডেল গৃহীত হয়েছে। কিন্তু, জাতিসংঘ জানে না- তিনি এ দেশে কী পরিমাণ নির্যাতন, দুর্নীতি, প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছেন।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ফজলুর রহমান পটল, মীর নাসির, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতি শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

১৮ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক প্রমুখ।

এছাড়াও মঞ্চে স্বাধীনতা যুদ্ধের সাবেক ৩৬ জন জেলা কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।