‘আমরা এখন হীরক রাজার দেশে বসবাস করছি এই ‘হীরক রাজার’ শাসন খান খান করা হবে: তরিকুল

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘হীরক দেশের রাজার’ শাসনের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন হীরক রাজার দেশে বসবাস করছি। ২৬ ডিসেম্বরের গণসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা দিলে এ রাজার দড়ি ধরে টান মারা হবে। যাতে রাজা খান খান হয়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, প্রয়াত খ্যাতনামা পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির ‘দড়ি ধরে মার টান, রাজা হবে খান খান’ জনতার এই সংলাপ ভারতীয় উপমহাদেশে খুব আলোচিত।

তরিকুল ইসলাম রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর ১৮ দলীয় জোটের গণবিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে আমরা এমন গণতন্ত্র ভোগ করছি, যা ধরা যায় না ছোঁয়া যায় না। যদিও এই গণতন্ত্রের জন্য আমরা অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমাদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ধাপে ধাপে কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, সরকারের লোকেরা ভিওআইপি ব্যবসার নামে দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। শুধু তাই নয় ডেসটিনি, হলমার্ক ও পদ্মা সেতুর নাম করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

বাংলাদেশ মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ্য করে তিনি আরো বলেন, প্রতিনিয়ত দেশে গুম, খুনের মিছিল দীর্ঘই হচ্ছে।

গণবিক্ষোভে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যৌথ মিলনে তত্ত্বাবধায়ক শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার পর গলাটিপে শিশুটিকে হত্যা করেছে। আর এর জন্মদাতাকে জেলে ঢুকিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাঁচতে হল লড়তে হবে। আর লড়াই করে বাঁচতে হবে। আর সেই লড়াইয়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে সরকার গায়ের জোরে দেশ চালাতে চায়। কিন্তু তা হতে দেওয়া হবে না।’

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল্লাহ মো. তাহের, হামিদুর রহমান আযাদ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম আকবর প্রমুখ।

এদিকে, গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে নয়াপল্টনের আশপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এরআগে দুপুর ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণবিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশ শুরু হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।