বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই খুন করেছে: দাবী তার পরিবারের - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই খুন করেছে: দাবী তার পরিবারের



কুষ্টিয়া/ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই খুন করেছে বলে তার পরিবার দাবি করেছে। তারা বলছে, রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে রফিকুলের পরিচিতি লাভই তার জন্য কাল হয়েছে। তবে পুলিশের ধারণা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণেও ঢাকার এই বিএনপি নেতা খুন হতে পারেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আদাবাড়ি-মনোহরপুর এলাকায় হাতকড়া লাগানো অবস্থায় রফিকুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঝিনাইদহের শৈলকূপার আনন্দনগর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে শুক্রবার এসেছিলেন ঢাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল।
এনেক্সা টাওয়ারের মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রফিকুল বঙ্গবাজারে পোশাক ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও লাশের ময়নাতদন্তকারী তাপস কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, রফিকুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে লাশের মাথার পেছন দিকে একটা বড় ধরনের আঘাতজনিত ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

রফিকুলের স্ত্রী ঝরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন এবং প্রতিপক্ষদের নানামুখী হয়রানি ও ঝক্কি ঝামেলায় দিন কাটত রফিকুলের।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম তিন বছর ধরে নিখোঁজ। তাকে সরকার গুম করেছে বলে বিএনপির দাবি। রফিকুলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তার দল।

ঝরা খাতুন বলেন, চৌধুরী আলমের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার প্রশাসনের লোক তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

“আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল রফিকুল। এসব কারণে অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায় সে। সে কারণে রফিকুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা ঘটেছে প্রশাসনের ছত্রছায়ায়।”

খুনিরা রফিকুলের সঙ্গে থাকা ৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রহণকারী রফিকুলের মামা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজনৈতিক কারণে রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া এসেছিলেন।

রফিকুলের দলীয় সহকর্মীরাও বলছেন রাজনৈতিক কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

৫৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফরিদা বেগম রোববার বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রফিকুল যতটা সক্রিয় ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে আরো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।” শনিরআখড়ার বাসিন্দা ফরিদা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকেই তিনি রফিকুলকে চিনতেন। ২০১০ সালে চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার পর ওয়ার্ড কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক হন রফিকুল।

এদিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, রফিকুল ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। “পরিবারের দেয়া তথ্যমতে ঘটনা প্রবাহ অনেকটা সেদিকেই যাবে বলে মনে হচ্ছে,” বলেন তিনি।

রফিকুলকে শ্বশুরবাড়ি থেকে শনিবার সন্ধ্যায় তুলে নেয় এক দল লোক, যারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেয় বলে তার স্বজনরা জানায়।

শাশুড়ি লিপি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যায় ঘরে বসে গল্প করার সময় ৭-৮ জন লোক র‌্যাব পরিচয় দিয়ে তার জামাতাকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল।

তবে রফিকুলকে তুলে নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে র‌্যাব।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এই বাহিনীর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক ইবনে মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কোনো সদস্য এই ধরনের কোনো অভিযান চালায়নি।

“প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এখনো বলার মত কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।”

রফিকুলের ছোট ভাই মো. মফিজুর রহমান মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাই কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী নয় যে তাকে র‌্যাব ধরে নিয়ে হত্যা করবে। র‌্যাবের পোশাক পরে আওয়ামী লীগের লোকজন আমার ভাইকে হত্যা করেছে।”

মফিজুর জানান, ১৯৮২ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তির চন্দ্রিপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন তার ভাই। ছোট বেলা থেকেই রফিকুল রাজনীতিতে যুক্ত।

শনির আখড়ায় রফিকুলের একটি ছয়তলা ভবন রয়েছে, তার দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে তিনি থাকতেন বলে মফিজুর জানান।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ