‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে লাশ

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বরাবরই একটি ফ্যাসিস্ট দল। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের সময়ে যখন তারা ক্ষমতায় ছিল, তখনো ৩২ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সরকারের আমলে, রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে লাশ পাওয়া যাচ্ছে।’
আজ সোমবার বিএনপির নিহত নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদারের নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা এসব কথা বলেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ১১টার দিকে রফিকুল ইসলাম মজুমদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী, সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ কয়েক শ নেতা-কর্মী অংশ নেন।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে তেজোদ্দীপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান খোকা। তিনি বলেন, ‘এই সরকার চিরদিন থাকবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ঘট নায়বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।’
জানাজা শুরুর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘হাতকড়া পরা অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মজুমদারের লাশ পাওয়া গেছে। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব।’ তিনি এ ঘটনায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
র্যাবের পোশাক পরা সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর খুন হন বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদার। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের মাঠ থেকে পুলিশ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে। রফিকুল ইসলাম মজুমদার ঢাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রফিকুলের স্বজনদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাঁকে খুন করেছেন। হাতকড়ার ওপর খোদাই করে ‘পুলিশ’ লেখা আছে। তবে পুলিশ-র্যাব কেউ হত্যা বা গ্রেপ্তারের দায় স্বীকার করেনি। রফিকুল ইসলামকে খুনের প্রতিবাদে আগামীকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।