আবারো ট্রাইব্যুনালে জ্ঞান হারালেন অধ্যাপক গোলাম আযম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম গতকাল সোমবার আবারও অজ্ঞান হয়ে পড়েন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। ফলে দ্রুত তাকে স্ট্রেচারে করে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে। ইতোপূর্বে তিনি আরো ২ বার ট্রাইব্যুনালে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওদিকে তার দুটি আবেদনের একটি গতকাল গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। অন্য আবেদনটি রেকর্ডে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিভিউ আবেদন করা হবে পুনঃবিচারের আবেদনের উপর প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির ছুটিতে থাকায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে অপর সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক সমন্বয়ে গতকাল ট্রাইব্যুনাল বসেন ১১টায়। অধ্যাপক গোলাম আযমকে তার এক ঘণ্টা আগেই নিয়ে আসা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। তার আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম দুটি আবেদন নিয়ে শুনানি করছিলেন। এমন সময় বেলা সোয়া ১১টায় নীচ থেকে খবর আসে যে অধ্যাপক গোলাম আযম অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। মিজানুল ইসলাম বিষয়টি বিচারকদের নজরে আনলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত (অনকল) ট্রাইব্যুনালে হাজির না করারও নির্দেশ দেয়া হয়। এতে আইনজীবীও সম্মতি দেন। তবে মিজানুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের বয়স এবং শারীরিক অবস্থা এখন কোন কিছুই পারমিট করে না। তার পরেও তার মামলা থাকলে তিনি নিজেই আসতে আগ্রহী। কারণ এখানে আসলে ২/১ জন আপন মানুষকে দেখতে পান এবং কথাবার্তা বলতে পারেন। পরে একটি স্ট্রেচারে করে হাজতখানা থেকে বের করা হয় অধ্যাপক গোলাম আযমকে। দ্রুত তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যখন তাকে এ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছিল তখন তার জ্ঞান ফিরে আসে।

ওদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় পূর্ব নির্ধারিত আর্গুমেন্ট মুলতবি রাখার আবেদন জানান এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, গত ৩ জানুয়ারির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবো। কিন্তু আমরা সার্টিফাইড কপি না পাওয়ার কারণে আবেদন করতে পারি নাই। রিভিউ আবেদনের মীমাংসা হওয়া পর্যন্ত এই মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখা হোক। কোর্ট বলেন, আমরা ঐ দিনই অর্ডারে সই করেছি। আপনাদের দরখাস্তও ছিল। ফলে না পাওয়ার কথা নয়। মিজানুল ইসলাম বলেন, তাহলে হয়তো কোন এক জায়গায় গ্যাপ হয়েছে। অথবা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। এই আবেদনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম। অপর আবেদনে আসামীপক্ষের ১নং সাক্ষীসহ অন্যান্য সাক্ষী হাজির করার আবেদন আজ মঙ্গলবার সাক্ষী হাজির করা সাপেক্ষে শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।