এক-এগারোর দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মঈন-ফখরুদ্দিনকে বৈধতা দিয়েছেন: তরিকুল ইসলাম

এক-এগারোর দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মঈন-ফখরুদ্দিনকে বৈধতা দিয়েছেন।শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম একথা বলেন। ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও  তত্ত্বাবাধায়ক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক এ জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)তরিকুল বলেন, “আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে দেশে রাজনৈতিক সংকট  সৃষ্টি করেছে্। তাই আওয়ামী লীগকেই এ সংকটের উত্তরণ ঘটাতে হবে।”

তরিকুল অভিযোগ করে বলেন, “স্বৈরাচার সরকারকে বৈধতা দেয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগের আছে। ৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা তা প্রমাণ করেছে। আর সে কারণেই স্বৈরাচার এরশাদ এতদিন ক্ষমতায় ছিলেন।”

তিনি বলেন, “এক-এগারোর দিনটিকে আমরা ঘৃণার সঙ্গে পালন করছি। অথচ আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। আর প্রধানমন্ত্রী এই দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তরিকুল বলেন, “ভাষণে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার কথা বলছেন, উন্নয়নের ফুলঝুড়ি দিয়েছেন। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এতো ভয় পাচ্ছেন কেন?”

তিনি বলেন, “নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আপনার ভয় কেন? আপনি যদি দেশের জন্য যদি এতো ভালো কাজ করেন, অনেক উন্নয়ন করেন তাহলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আপনি অবশ্যই জিতবেন।”

প্রধানমন্ত্রী তার ছায়াকেও ভয় পান সে কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তরিকুল আরো বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে ভালো আর অন্য দলে গেলে তারা বাজে দল হয়ে যায়। ৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামীলীগ জামায়াতকে নিয়ে আন্দোলন করার সময় তারা যুদ্ধাপরাধী ছিল না।”

নৈরাজ্য সৃষ্টি না করে অবিলম্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তরিকুল। পাশাপাশি চলমান আন্দোলনে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে অংশ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আখতার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মামুন আহম্মেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. শরিফ উদ্দিন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ্।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.ন.ম. মুনির আহমদ চৌধুরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।