হরতালকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে নিজেদের পকেটস্থ করার চেষ্টা করছে:বাম দল

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, মরিচের গুঁড়া (পিপার স্প্রে) একটি অবৈধ কেমিক্যাল। পুলিশকে দিয়ে ক্ষতিকর এ কেমিক্যাল ব্যবহার করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বুধবার হরতাল চলাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং গণতান্ত্রিক বামমোর্চার ডাকা অর্ধদিবস হরতালের সমর্থনে সমাবেশটি এখনও চলছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিপিবি-বাসদ হরতালের সমর্থনে প্রায় একই সময়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করলে পুরানা পল্টন মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর মিছিলটি ঘুরে এসে ফের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সেলিম বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে হরতালের আগের দিন হরতাল পালন করতে জনগণকে আহ্বান জানানোর অধিকার আমাদের রয়েছে। তেমনি শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালনের অধিকারও আছে। কিন্তু পুলিশ সকাল থেকেই বিনা উষ্কানিতে আমাদের গণতান্ত্রিক এ কর্মসূচিতে মরিচের গুঁড়া এবং জলকামান, টিয়ারশেল ব্যবহার করে বাধা দিচ্ছে। এতে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।’’

‘‘পুলিশের এমন আচরণই প্রমাণ করে, মহাজোট সরকার কায়েমি স্বার্থবাদীদের সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করতে কতোটা তৎপর।’’

মরিচের গুঁড়ার ব্যবহার প্রসঙ্গে সেলিম আরো বলেন, ‘‘আফগানিস্তান-ইরাক যুদ্ধে আমেরিকা এ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেছিলো। এখন এটি এদেশের অন্দোলনকারীদের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘পশ্চিমা দেশগুলোতে এই মরিচের গুঁড়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই দেশগুলোতে আগে যখন এটি ব্যবহার করা হতো, তখন পুলিশ এক ধরনের মাস্ক ব্যবহার করতো। কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যখন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করছেন, তখন মাস্ক ব্যবহার করছেন না। ফলে এতে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’’

এটি মানবদেহে স্থায়ী রোগসহ বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যা ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করেন সেলিম।

হরতাল প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘বামপন্থীদের এই হরতালকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে নিজেদের পকেটস্থ করার চেষ্টা করছে। এর আগে আমাদের ডাকা হরতালে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। আর এবার একই ইস্যুতে হরতাল আহ্বান করলেও পুলিশ স্ববিরোধী আচরণ করছে।’’

সিপিবি সভাপতির দাবি, ‘‘এর আগে বামপন্থীদের ডাকা হরতালে সরকার নমনীয় ভাব পোষণ করে বামপন্থীদের নিজেদের সহযোগী বলে প্রমাণ করা ও আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এবারও বিভিন্ন বামপন্থী দলের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে সে চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

এবার বিএনপি তাদের হরতালে সর্মথন জানিয়ে আন্দোলনকে নিজেদের দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রবীণ এই বাম নেতা।

তিনি এ সময় বিএনপির আমলে ৯ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই বিএনপির সমর্থন ও আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা সাম্রাজ্যবাদের দোসর ওই দু’দলের বিপরীতে জনস্বার্থে স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছি। বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক শক্তির সমাবেশ ঘটিয়ে আমরাই দেশের সত্যিকার উন্নয়ন করতে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আর সে লক্ষ্যেই আমাদের এ আন্দোলন চলছে, চলবে।’’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স, আহসান হাবিব, জলি তালুকদার প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।