আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারে বিএনপি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারে বিএনপি



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিএনপি আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি মাসের ২০/২১ তারিখের দিকেও চলে আসতে পারে জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকদেরই একজন।
তিনি জানান, সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে দলের মধ্যেই মত-পাল্টামত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি অংশ চান সংসদের আসন্ন অধিবেশনে যোগ দিতে। আবার অন্য অংশ মৌন থাকছেন বা দ্বিমত পোষণ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, বছরের মাঝামাঝি বাজেট অধিবেশনে যোগদান এড়াতেও আসন্ন অধিবেশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি।

কারো কারো মতে, বারবার সরকারের প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের বিল আনার আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এই বিষয়ে সংলাপের সুযোগও দিচ্ছে না সরকার। তাই এবার শেষ চেষ্টা হিসেবে সংসদে যোগ দিয়েই এই দাবি তুলতে পারে এই দল।

তবে এবার বিএনপির সংসদ যোগদানে ‘পদ টেকানো’র বাধ্যবাধকতা নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ  বলেন, “বিএনপি শুধু এ অধিবেশন কেন, সবসময়ই সংসদে যেতে চায়। কিন্তু দেখুন, তারা কী ব্যবহার পায়? উপযুক্ত পরিবেশ পায় না, প্রাপ্য মূল্যায়ণ পায় না। দেশের প্রধান বিরোধীদল দেশের মানুষের জন্য কথা বলতে গিয়ে প্রতিদফায় অপমানিত হয়েছে মহান সংসদে।’’

মওদুদ বলেন, ‘‘তবু আগামী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দলের নেতাদের কারো কারো মত প্রবল। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এ বিষয়ে সবার মত নেবেন। সিদ্ধান্তও নেবেন যথাসময়ে।’’

তিনি বলেন, ‘‘জনমানুষের স্বার্থেই তার প্রতিটি পদক্ষেপ। তাই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ম্যাডাম নিতে পারেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এম কে আনোয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র বিরক্তি দেখালেন ।

দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক এই নেতা প্রসঙ্গটি কিছুটা এড়িয়ে গিয়েই বলেন, ‘‘আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিএনপি যাবে কিনা বা এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হলো কিনা আমি এখনো জানি না।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকার যেসব গালিগালাজ করে, যে ব্যবহার করে আমাদের সঙ্গে, চাইলেও আমরা সংসদে যেতে পারি না। তবু ম্যাডাম যদি সেই সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা তিনি সবদিক বিবেচনা করে, দেশের স্বার্থ চিন্তা করেই নেবেন।’’

এই নেতা যোগ করেন, ‘‘আমাদের তো গন্ডারের চামড়া। এতো অপমানের পরও আমরা জনগণের পক্ষে কথা না বলে থাকতে পারি না। শত হলেও জনগণের দল একমাত্র বিএনপি।’’

সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে আনোয়ার বলেন, ‘‘সংসদ মহান, অথচ দ্যাখেন, কী পরিবেশ করে রেখেছে তারা! সেখানে দাঁড়িয়ে সবাইকে গালি দেয়। সাংবাদিকদের ‘জারজ সন্তান’ বলে লতিফ সিদ্দিকীর মতো নেতা। সেই সংসদে গিয়ে বারবার অপদস্থ হয়েছি আমরা।’’

অবশ্য ‘সংসদ যোগদান সিদ্ধান্ত’ যে কারণেই নেওয়া হোক না কেন, তা জনগণের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষিরা। তাদের মতে, সংসদ সরকার ও বিরোধীদল- উভয়ের অংশগ্রহণেই কেবল প্রাণ পায়। আর বিরোধীদল সংসদে গিয়ে কথা বলেই জনগণের কাছে অধিক আস্থাভাজন হতে পারে বলেও তাদের মত।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ