ধর্ষণ ও নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশের পর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তুলে নিয়ে গেছে এক কিশোরীকে

ধর্ষণ ও নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশের পর এক কিশোরীকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে মেয়েটির বাবা দিনমজুর নুরুল ইসলাম। এলাকার সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের হুমকি-ধমকির কারণে এখন মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন  নির্যাতিত মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা। কাপাসিয়ার বড়টেক এলাকার বাসিন্দা  ওই পরিবারের প্রতিবেশীদের আশঙ্কা,  শেষ পর্যন্ত না মেয়েটি গুম হয়ে যায়।

জানা গেছে,  গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনের এমপি সিমিন হোসেন রিমির কথিত এপিএস কাজল মোল্লার ঢাকার মিরপুরের বাসায় কয়েক মাস আগে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় ওই কিশোরী (১৬)। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ওই নেতা দলীয় ও প্রশাসনিক  প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়িতে প্রকাশ হয়ে পড়ে।

গৃহকর্তা কাজল মোল্লা ধর্ষণের পাশাপাশি  দরিদ্র মেয়েটির ওপর চালান মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। তার স্ত্রীও মেয়েটিকে নির্যাতন করেন। মেয়েটির দুই হাত কব্জি পর্যন্ত গরম তেলে দগ্ধ করা হয়। থেতলে দেয়া হয় তার স্পর্শকাতর অঙ্গ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয় এক সপ্তাহ।

সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে কাজল মোল্লার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায়  প্রাইভেটকারে করে কাপাসিয়ায় তার বাড়ির এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে ঝোপের ভেতর ফেলে যায়। স্থানীয় আসাদুজ্জামান আসাদের বাড়ির কাছে একটি ঝোপের ভেতর পড়ে থাকা গুরুতর আহত ওই কিশোরীকে স্থানীয় জনতা উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। পরে তাকে কাপাসিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে যুবলীগের নেতা আসাদের নেতৃত্বে ওই কিশোরীকে বাড়িতে পঠিয়ে দেয়া হয় এবং কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করা হয়। পরে কাজল মোল্লার ক্যাডাররা মেয়েটির বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের কয়েক দিন অবরুদ্ধ করে রাখে।

১৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কাপাসিয়ায় ওই কিশোরীর সন্ধানে আসেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক কানিজ ফাতেমা রুহিতা নির্যাতিত ওই কিশোরীকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন। কিন্তু কেন ও কোথায় নেয়া হয়েছে তা পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি  বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদলের সদস্য সোহেল রানা। মেয়েটির বাবা নুরুল ইসলাম সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে তার মেয়ের সন্ধান ও উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চান।

আইনজীবী সোহেল রানা জানান, গত কয়েক দিন কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদের সূত্র ধরে  সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে ঢাকা থেকে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীর বাড়িতে যান। সেখানে তারা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

আইনজীবী দলের সদস্যরা  জানান,  বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজল মোল্লার লোকজন কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সংবাদ সম্মেলনের নামে তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে  তাকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়নি। বাড়ির লোকজনও তার  কোনো সন্ধান জানেন না। কাজল মোল্লার পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তারা।

আইনজীবী দলটি সন্ধ্যায় কাপাসিয়া থানায় পুলিশের সঙ্গে আলাপকালে নির্যাতিতা মেয়েটির সন্ধানে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওই নির্যাতিতার বাবা দিনমজুর নুরুল ইসলাম কাপাসিয়া থানায় গিয়ে তার মেয়ের সন্ধান ও উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চান বলে থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।