রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ,পুলিশের সঙ্গে সংগর্ষ,আটক ৬০

শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।
এসব সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক আহত এবং অর্ধশতাধিক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পুলিশের পিকআপসহ অন্তত ১০টি গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মতিঝিল থেকে মিছিল বের করে ছাত্রশিবির দৈনিক বাংলা মোড়ের দিকে যেতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ছাত্রশিবিরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছোড়ে। শিবিরকর্মীরাও এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে জবাব দেয়।

এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরকর্মীরা এখানকার রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সংঘর্ষ থেকে পুলিশ শিবিরের কমপক্ষে ২০ জনকে আটক করে। তবে শিবির জানিয়েছে, মতিঝিলেই তাদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত এবং অন্তত ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দৈনিক বাংলার রেশ কাটতে না কাটতেই শিবির সচিবালয় এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ আসার আগেই সচিবালয়মুখী বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা সরে পড়ে।

এ ঘটনার কয়েক মিনিট আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিরাপত্তা বহরসহ শিবিরের আক্রমণের শিকার হয় তিনজন সচিবের গাড়ি। নিরাপত্তার জন্য এ সময় সচিবালয়ের মূল ফটক ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া রাজধানীর পুরোনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক, বাংলা মটর, জিরো পয়েন্ট, ফকিরাপুল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এসব সংঘর্ষ থেকে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জামায়াত-শিবিরের এই হামলাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে পুলিশ শক্ত হাতে তা দমন করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে। পুলিশ ঢাকা থেকে ৬০ জন গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছে।

একই সঙ্গে মতিঝিল থানার ওসি হায়াতুজ্জামান মোল্লাসহ অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। তাদের রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান বলেন, ‘রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি ও তৎপরতার কারণে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।’

এদিকে, দুপুরে হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, ‘শিবিরের আজকের অরাজকতার ব্যাপারে পুলিশের কাছে আগাম তথ্য ছিল।’ তবে তথ্য থাকার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিল না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল বাতিল করে আটক নেতাদের মুক্তি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছিল।

তিনি বলেন, তবে বিনা উস্কানিতে পুলিশ শিবিরের মিছিলে হামলা চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক নেতা-কর্মীকে আহত এবং অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।