যেকোনো মূল্যে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ কর্মসূচি পালন করার ঘোষনা জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়ে বলেছেন অনুমতি না পেলেও  বুধবার যেকোনো মূল্যে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দলটি এ ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সমাবেশ কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থেকে তা সফল করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, পূর্বঘোষিত সমাবেশে বাঁধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি।

কর্মসূচি সফলে রাজধানীতে এক যৌথ সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জামায়াত-শিবির কখনও পুলিশের উপর হামলা করে না। সরকারের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে রাস্তায় নামলেই পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে সারা দেশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবির কর্মীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়ে ডিএমপি কমিশনার অন্যায় করেছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে তিনি এই নির্দেশ দিতে পারেন না।’

আযাদ বলেন, ‘রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে বুধবারের সমাবেশ-মিছিল কর্মসূচি পালনে ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকার আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

সভায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

যৌথসভার বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচির অনুমতি সরকার না দিলে পরের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াত সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে।

উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, নেতা-কর্মীদের মুক্তিসহ নানা দাবিতে জামায়াত ঢাকা মহানগর শাখা বুধবার বিকাল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে।

কর্মসূচির অনুমতি পেতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর আবেদন করলেও মঙ্গলবার রাতঅব্দি তারা অনুমতি পায়নি।

এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জামায়াতের নৈরাজ্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এ ঘোষণা দিয়ে আরও বলেন, ‘গত দুদিন জামায়াত-শিবির সারা দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তাতে আমার বিশ্বাস প্রশাসন তাদের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিবে না।’

এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ১৪ দলের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম অনুরূপ ঘোষণা দিয়ে জামায়াত-শিবির দেখামাত্র গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দের জন্য ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবারের এই কর্মসূচি ঘিরে পরস্পরমুখি রাজনৈতিক অবস্থানে রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।