আন্দোলনের নামে বিরোধী দলের সাথে তলে তলে যোগাযোগ রাখা চলবে না - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আন্দোলনের নামে বিরোধী দলের সাথে তলে তলে যোগাযোগ রাখা চলবে না



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

আন্দোলনের নামে বিরোধী দলের সাথে তলে তলে যোগোযোগ রাখবেন, আর সব কিছু হয়ে যাবে- এটা তো সম্ভব নয়। এটা হওয়া উচিত নয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেছেন। বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলন করতে হবে কেন, আমরা তো সব কিছু দিচ্ছি।’

এরআগে বিকালে স্পিকার অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনা করানো বাদ দিয়ে ঢাকায় এসেছেন দাবি আদায় করতে, এটা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের আন্দোলন-দাবি ছাড়াই শিক্ষকদের বেতন ১০০ ভাগ করেছি। কখন, কোথায় কতটুকু করতে হবে সেটা সম্পর্কে আমরা সচেতন। আমাদের বাজেটটাও তো বিবেচনা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি পূরণ করতে হলে বাজেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। আমরা কি রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ-কালভার্টসহ সব উন্নয়নের কাজ বাদ রেখে শুধু বেতন ভাতা দিয়ে যাব? আয় বাড়ুক আমরা বিষয়টা ভেবে দেখবো।’

তিনি বলেন, এমপিভুক্তির জন্য একটা নীতিমালা আছে। এসব নিয়মনীতি মেনে শর্তগুলো পূরণ করে এমপিওভুক্তি চাইতে হবে। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। কেউ ইচ্ছামত স্কুল তৈরি করে বলবে- এখনই এমপিওভুক্ত করতে হবে, জাতীয়করণ করতে হবে- এটা কি সম্ভব?

গোলাম দোস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১ কে সামনে রেখে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক লক্ষ্য ও কৌশল এতে বিবৃত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে এ সকল লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে।

এমপিওভুক্তি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

ডা. সিরাজুল আকবরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অটিজম বিষয়ে বর্তমানে অনেক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে একটি করে অটিজম কর্নার সৃষ্টির চেষ্টা করছি।

মো. শফিকুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি জানান, এরই অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুর বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব ১৯ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১ম সভায় অনুমোদন, ২৯ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সই এবং ২ ফেরুয়ারি ২০০৯ তারিখ হতে ডিজাইন প্রণয়ণের কাজ শুরু হয়। বিস্তারিত ডিজাইন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্দা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে চারটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে অমীমাংসিত বিষয় নিরসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।


বাংলাদেশ এর অন্যান্য খবরসমূহ
রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ