পুলিশের গুলিতে বগুড়ায় আরও ২ শিবিরকর্মী নিহত

দুই জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বগুড়া। বিকালে ফের সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় আরও দুজন শিবিরকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন- শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ ও শরীফ। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় ছাত্রশিবিরের মেসগুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেপে উঠছে বগুড়া শহর।

এরআগে দুপুরে হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ হামলা চালালে শিবির নেতা রুহানী ও জামায়াতকর্মী মিজানুর নিহত হন। পরে বিকালে লাশ নিয়ে মিছিল করলে ফের পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবির।

বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশ। সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন তলব করা হয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় শিবিরের এক নেতাসহ দুইজন নিহতের প্রতিবাদে শনিবার বগুড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা জামায়াত।

এরআগে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় শিবির নেতাসহ দুজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন শাখা শিবির সভাপতি রুহানি এবং ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান।

বগুড়া সদরে দুপুর ১টায় জামায়াত-শিবিরের পিকেটিংয়ের সময় ক্ষমতাসীনদের রাম দার কোপে মিজানুর গুরুতর আহত হন।শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া, ফুলবাড়ি এলাকায় আহত ছাত্রশিবিরে আজিজুল হক কলেজ শাখার পুরাতন ভবন শাখার সভাপতি রুহানি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ সহিদ আলম জানান, ‘পিকেটিংয়ের ঘটনায় এক ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে মারা যান। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।