সোমবার রাজধানীতে জামায়াত ইসলামী সমাবেশ, বাধা দিলেই হরতাল

আগামী সোমবার রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের  প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত ইসলামী। তাদের এই কর্মসূচীতে  সরকার বাধা দিলে আবারো সারা দেশে হরতাল কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। সোমবার সকাল ১০ টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঢাকা মহানগর জামায়াত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেছে। বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের চার নেতাকর্মী হত্যা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করবে তারা। সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী শাখার নেতারা বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “সোমবারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।”

তিনি বলেন, “শনিবার আমরা রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছি। পুলিশ এতে বাধা দেয়নি, তাই কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। বিগত কর্মসূচিগুলোতে সরকারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেয়ার কারণেই সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে ওইসব সহিংসতার জন্য সরকার পুরোপুরি দায়ী।”

জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, “সোমবারের মিছিল-সমাবেশে বাধা দিলে হরতাল দেয়া হবে। তবে এটি নির্ভর করছে সোমবার প্রশাসনের ভূমিকার ওপর।”

গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল করেছিল জামায়াত-শিবির। আগের দিন বুধবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে প্রশাসন তাদের সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় হরতালের ঘোষণা দেয়। ওই হরতালে বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের চার নেতাকর্মী নিহত হয়। যশোরে মারা যান এক পুলিশ কনস্টেবল।

দলীয় কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে শনিবার ঢাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছে দলটি। পুলিশ তাদের ওই কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি। কঠোর অবস্থান থেকে সরে পুলিশের এমন আচরণ ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সদস্যরা জানান, শন্তিপূর্ণ কর্মসূচি সবাই করতে পারে। এটি সব দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তারা যেন সহিংস ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য প্রস্তুত ছিল বলে জানায় পুলিশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।