কলাবাগান থানার মামলায় জামিন পেল মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে কলাবাগান থানায় দায়ের করা মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

সোমবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের যৌথ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের রাজপথ অবরোধের সময় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মতিঝিল, পল্টন, শেরে-বাংলা নগর, সূত্রাপুর ও কলাবাগান থানার ছয়টি মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এরমধ্যে পাঁচ মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন তিনি। সবশেষ কলাবাগান থানার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার ছিলেন।

কলাবাগান থানার মামলাতেও জামিন পাওয়ায় কাল দুপুরের মধ্যে মির্জা ফখরুল মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আদলাতে মির্জা ফখরুলের পক্ষে শুনানি শেষে মওদুদ এ কথা জানান।

আদালতে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মওদুদ ছাড়াও শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

প্রসঙ্গত, পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় ১০ ডিসেম্বর মির্জা ফখরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই দুই মামলায় হাইকোর্ট গত ২ জানুয়ারি তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

এর পরদিন তাকে মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ জানুয়ারি সূত্রাপুর থানার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান ফখরুল। তবে মতিঝিল থানার মামলায় নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।

কিন্তু পুলিশ তাকে কলাবাগান ও পল্টন থানার অন্য দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এ দুই মামলার মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি পল্টন থানার মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। আর কলাবাগান থানার মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। এ অবস্থায় কলাবাগান থানার মামলায় জামিনের জন্য রোববার তার পক্ষে আবেদন করা হয়।

এছাড়া গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন কোনো মামলায় মির্জা ফখর্বলকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের রাজপথ অবরোধের ঢাকার বিভিন্ন থানায় যে ৩৮টি মামলা হয়, তার প্রায় সবক’টির এজাহারে মির্জা ফখরুলের নাম আছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে ছয়টি মামলাতেই পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।