মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিনে মুক্ত

অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ ৫৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হয়ে আসলে মির্জা ফখরুলকে তার মেয়ে শামারুখ মির্জাসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।  বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মুক্তির খবরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুপুরের পর থেকেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ভিড় করেন।

মুক্তির পর মির্জা ফখরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কাশিমপুর কারাগারের ঘটনাস্থল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শাইরুল কবির খান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিকাল ৪টার দিকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনের কাগজপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছলে সেখানকার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে কারা কর্তৃপক্ষ বিকাল ৫টায় মির্জা ফখরুলকে মুক্তি দেন।’

উল্লেখ্য,গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির দিন গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৭টি মামলা হয়।

এসব মামলার মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয়টিতে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় ১০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরমধ্যে পাঁচ মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন তিনি। গত সোমবার গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে কলাবাগান থানায় দায়ের করা ষষ্ঠ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মির্জা ফখরুল।

প্রসঙ্গত, পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় ১০ ডিসেম্বর মির্জা ফখরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই দুই মামলায় হাইকোর্ট গত ২ জানুয়ারি তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

এর পরদিন তাকে মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ জানুয়ারি সূত্রাপুর থানার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান ফখরুল। তবে মতিঝিল থানার মামলায় নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।

কিন্তু পুলিশ তাকে কলাবাগান ও পল্টন থানার অন্য দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এ দুই মামলার মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি পল্টন থানার মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। আর কলাবাগান থানার মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। এ অবস্থায় কলাবাগান থানার মামলায় জামিনের জন্য রোববার তার পক্ষে আবেদন করা হয়।

এছাড়া গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন কোনো মামলায় মির্জা ফখর্বলকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।