জাতীয় পার্টি আর মহাজোটে নেই

সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বেরিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই ঘোষণা দেন। খবর: নিউজ ওয়ার্ল্ড, নিউ ইয়র্ক। এরশাদ আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আর মহাজোটে নেই। আমরা একা নির্বাচন করব। আর জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে। কারণ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’
প্রসঙ্গত, এরশাদ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে যোগ দিতে ওয়াশিংটন গিয়ে মহাজোট ছাড়ার এ কথা জানালেন। ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক, কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলী, পিটার কিং, ইভেক ক্লার্ক, এনডিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইন প্রণেতা ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ওয়ার্ল্ড নিউজকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতাদের ব্যাপারে যে রায় দিয়েছে তাতে আমার নিজস্ব কোনো মন্তব্য নেই। আদালতের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আর বিচারিক বিষয়ে মন্তব্য করা এখতিয়ারবহির্ভূত।’ তত্ত্বাবধায় সরকার প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী নই। কারণ এই তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আমাদের অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এজন্য আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র করার মাধ্যমে নিরপেক্ষ স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব।’ মহাজোট ছেড়ে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আরেকটি জোট করার ইঙ্গিত দিয়ে এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নেতৃত্বেও নির্বাচনী জোট হতে পারে। এ নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ আছে।উল্লেখ্য, এরশাদ মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তার ভাই জিএম কাদের এখনো মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টি কোটায় মন্ত্রী হন জিএম কাদের।প্রথমে তিনি বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলেও পরে তাকে সরিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।