জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানিনা : হানিফ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানিনা : হানিফ



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

রংপুর: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আমরা জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মেনে নিতে পারি না। কারণ তিনি রাজাকারদের মন্ত্রিত্ব, এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছেন।’ তিনি শনিবার বিকালে রংপুরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১৪ দলের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বিশেষ সহকারী অভিযোগ করেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমান কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং আব্দুল আলীমকে রেলমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।’ তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রাজাকার, আল-বদরদের নিয়ে এ দেশে আর আপনারা (বিএনপি) রাজনীতি করতে পারবেন না। দেশের মানুষ তা করতে দিবে না।’বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন হানিফ।তিনি এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই ষড়যন্ত্র প্রতিহতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া মার্কিন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিষয়ে। আমরা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারি না। বাংলাদেশের বিষয়ে বিদেশে আবেদন করায় তিনি রাষ্ট্রদ্রোহীমূলক কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।’তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে কোনো আপস করবে না। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আওয়ামী লীগই শুরু করেছে। আপসের ইচ্ছে থাকলে তো এই বিচার সরকার শুরু করত না। সুতরাং কখনও আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কারও সঙ্গে আপস করবে না।

হানিফ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে ‘ডিগবাজি’ মওদুদ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আপনি (মওদুদ আহমদ) নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানান কথা বলেছেন, কিসের ইতিহাস তারা জানবে। আপনারা তো ইতিহাস বিকৃত করে রেখেছেন।’  আপনি কি করেছেন, কি করেন নাই দেশের মানুষ তা জানে। তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস শেখাতে আসবেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে। সে কারণেই রাজপথে নেমে এসেছে।’ হানিফ বলেন, দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করছেন। সেই ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ওয়াশিংটন পোস্টে তার লেখা নিবন্ধে।এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) যে লেখাপড়া করেছেন, তাতে তিনি কি ধরনের নিবন্ধ লিখতে পারেন দেশের মানুষ তা জানে। এটি তার উপদেষ্টারা লিখে দিয়েছেন হয়তো। তবে তিনি যে নিবন্ধ লিখেছেন, তাতে তিনটি অপরাধ করেছেন।’ হানিফ আরও বলেন, ‘৪০ বছর পর যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। তখন বিএনপি-জামায়াত বিচার বন্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কাদের মোল্লার রায় ঘোষণা হওয়ার পর আমরা ১৪ মিনিটের মাথায় রায় প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ এই রায় জনগণের প্রত্যাশিত রায় নয়। তারা কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়েছে।’ সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি-জামায়াত) এটা কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারবেন না।’ এ সময় স্বাধীনতার ৪০ বছর পর রাজাকারদের বিচারের জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এর চেয়ে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল মনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিম মাহমুদ চৌধুরী, জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য মাহমদুদুল হাসান মানিক, ন্যাপের লুৎফর রহমান মঞ্জু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিয়ার রহমান শফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি আরশাদ হারুণ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ