জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় ‘ট্রাইব্যুনাল আইন দেখেই রায় দেবে” প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়ে বলেছেন জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় দেয়ার । তিনি রোববার জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আইন দেখেই রায় দেবে। তবে ট্রাইব্যুনাল যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নেয়। মানুষ কি চায় তা যেন ভাবে!’ তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ এ বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। আমার জীবন দিয়ে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই এ বাংলায় হবে না। আমি এটুকু বাংলার নতুন প্রজন্মকে জানাতে চাই।’

শাহবাগে সরকার সমর্থকদের আন্দোলন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওখানে শাহবাগ বলে কিছু নেই। শাহবাগে পাকিস্তানী পাকিস্তানী একটা ভাব থেকে যায়। অতীতে শাহবাগ হোটেল ছিল, এখন নেই। যেহেতু তরুণরা সেখানে জমায়েত হয়েছে, তাই এটা প্রজন্ম চত্বর।’

তিনি বলেন, এ আন্দোলন কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, আমাদের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। দীর্ঘদিন যে সংগ্রাম করে এসেছি, একই দিনে বাবা-মাকে হারিয়েছি, তিন তিনটি ভাইকে হারিয়েছি, নবপরিণীতা ভাই বৌকে হারিয়েছি। তবুও বাংলার মানুষকে ভালবেসে গেছি, শুধু একটি সংগ্রাম এদেশের মানুষকে প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। সেভাবেই এগিয়ে গেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এক-দুদিনের নয়, বহু ত্যাগ-তিতীক্ষার। আর সে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে এটাই ছিল মানুষের আকাঙ্ক্ষা।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মের নামে রাজনীতি করেছে। আর সবচেয়ে অধর্মের কাজ করেছে, দিনের পর দিন আমার মা-বোনদের উপর অকথ্য নির্যাতন করেছে। তারাই পরে দেশে রাজনীতি করেছে। কী বিস্ময়!

বঙ্গবন্ধু কন্যা সংসদে আরও বলেন, যে বিচারের কাজ জাতির পিতা শুরু করেছে, সে বিচার ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বন্ধ হয়ে যায়। যে সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জড়িতদের ভোটদানের অধিকার ছিল না, কিন্তু মার্শাল ল’ দিয়ে পরে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে তারা বাংলাদেশকে অপমাণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ সালের পর এদেশে ফিরতে পারিনি। লন্ডনে যখন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলতে যাই, বহু বাধার সম্মুখীন হয়েছি। ব্রিকলেনে অনেক বড় বড় মানুষ ছুরি নিয়ে মারতে এসেছে, তারপরও হাল ছাড়িনি। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া আমাদের পুরোনো ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের কয়েকটি প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারেনি। প্রকৃত ইতিহাস হারিয়ে গেছে, ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেছে গণ্ডগোল। আর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী হয়ে গেছে শুধু হানাদার বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পারভেজ মোশাররফকে বলেছি, আমরা ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু ভুলে যেতে পারি না। উই ক্যান ফরগিভ, বাট নট ফরগেট। বিশ্বের সর্বত্র যুদ্ধাপরাধীদের এখনো খুঁজে খুঁজে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। তথ্য- প্রযুক্তির বিকাশ না হলে প্রকৃত তথ্য জানা যায় না।’

তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারি না। বিদেশে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস পাওয়া যায়, কি বিকৃতিটা নাই এখানে করা হয়েছে! কী দুর্ভাগা জাতি আমরা! কী দুর্ভাগ্য আমাদের!

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি তরুণ সমাজকে ধন্যবাদ জানাই, ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু করেছি। আর এবার ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। আমি দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। তরুণরা না জাগলে সম্ভব হতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।