যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেশকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে: বিএনপির বিবৃতি

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেশকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আশঙ্কার কথা জানায় বিএনপি। রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে চলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দলটি নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরে।

বিবৃতিতে বিএনপি বলে, বিচারকরা তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন, যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে যদি রায় ঘোষণা করতে না পারেন তা হলে সমগ্র বিচারিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এটা আইনের শাসন ও ন্যয়বিচারের পরিপন্থী।

এতে বলা হয়, শাহবাগের সমাবেশ থেকে কিছু মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি উচ্চারিত হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও পথের প্রতি এ ধরনের অসহিষ্ণুতা নৈরাজ্যেকে অনবিার্য করে দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করতে পারে। এটা কারও কাম্য হতে পারে না।

বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো “স্বাধীনতার অব্যবহিত পর পরই সিরাজ শিকদার, অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও অগণিত তরুণ-তরুণীরা যেভাবে বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং সাম্প্রতিককালে ইলিয়াস আলী  ও চৌধুরী আলমসহ যারা গুম হয়েছেন, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যা এবং অ্যাডভোকেট এম.ইউ. আহমেদসহ যারা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন সেই সব মানবাধিকার লংঘনের বিষয়গুলো, শিশু ও নারী নির্যাতন, বিশ্বজিৎ-এর হত্যাকাণ্ড, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার, হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ার বাজার, কুইক রেন্টাল কেলেংকারি, শাসক দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন সমূহের সন্ত্রাস বাংলাদেশের কপালে কলঙ্কের  তিলক এঁকে দিয়েছে।

এই বিষয়গুলো শাহবাগে সমবেত তরুণ সমাজের হৃদয় ও আবেগকে স্পর্শ করলে এবং তাদের উদ্বেগ ও প্রতিবাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে বর্তমানের আন্দোলন আরও মহিমান্বিত হতো।

আমরা আশা করব, শাহবাগে সমবেত তরুণ-তরুনণরা দেশবাসীর এ সকল উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা ধারণ করবেন।

আমরা আশ্বস্ত করতে চাই বিএনপি যদি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসে তাহলে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে এবং অবশ্যই মানবতাবিরোধী অপরাধসহ সকল ধরনের অপরাধের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবে।

১৯৭১ সনে হানাদারমুক্ত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের জনগণ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সুশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছে। এসব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্রকে রক্ষা এবং অব্যাহত রাখার জন্য আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ। একমাত্র নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। তাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা নতুন প্রজন্ম বহুদলীয় গণতন্ত্রকে রক্ষা এবং অব্যাহত রাখার জন্য একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

আজ সময় এসেছে, দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার। বাংলাদেশের জনগণ এই স্বপ্নকে লালন করেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আমরা তরুন-প্রজন্মসহ দেশের সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।