হামলায় পুলিশ মামলায় পুলিশ, আসামী ১০হাজার

# সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুরুষ শূণ্য
# বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক
# তান্ডবলীলা চলছে অব্যাহতভাবে
# তুলকালামের নেপথ্যে সরকারীদলের নেতাকর্মীরা
কক্সবাজারে শুক্রবার জুমার নামাজের পর আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের নৃশংসভাবে গুলীবর্ষণের সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানায় উল্টো ৬টি মামলায় জ্ঞাতসহ অজ্ঞাত অন্তত ১০হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। অগণিত মানুষের মাঝে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক। সদর থানার একটি মামলায় জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান’র নামও উল্লেখ করা হয়। এরইমধ্যে বর্ষিয়ান জননেতা ও আলেমেদ্বীন স্বর্ণপ্রদকপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি মাওলানা আবদুল গফুর ও চকরিয়ার বিশিষ্ট সমাজ সেবক গোলাম মোস্তাফা কায়সারের বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়ে ব্যাপক তল্লাসীর নামে মালামাল তছনছ করে। হামলা পুলিশের-মামলাও পুলিশের। চালাচ্ছে নির্লজ্জ অভিযান। জামায়াত শিবির ধরপাকড়ের নামে সমাজ সেবক ও বিশিষ্টজনদের বাড়িতে পুলিশের বেপরোয়া তান্ডব লীলা চলছে অব্যাহতভাবে। ঘটিয়ে চলেছে যে কোন মূহুর্তে তুলকালাম কান্ড। রেহায় পাচ্ছে না নারী-শিশুসহ আবাল বৃদ্ধ বণিতারাও। চালানো হচ্ছে জামায়াত-শিবির সন্দেহে এতিমখানা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং মসজিদে আসা মুসল্লিদের করা হচ্ছে নানা হয়রানি। এসবের নেপথ্যে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ছে সরকারীদলের নেতাকর্মীরাও। এপর্যন্ত কক্সবাজার সদরে ৪টি, চকরিয়ায় ১টি ও সীমান্ত উপজেলা উখিয়ার ১টিতে মান-সম্পন্ন আড়াইশ ব্যক্তি নেতৃবৃন্দদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অন্তত ১০হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। এতে বাদ পড়েনি জনপ্রতিনিধি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, কক্সবাজার শহরের জনপ্রিয় নেতা মেয়র সরওয়ার কামাল ও জননেতা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জি.এম রহিমুল্লাহ এবং বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থী, মসজিদের ইমাম, শ্রেণী পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। বিশিষ্ট জনদের মতে, এসব দায়েরকৃত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা সাধারণ জনতাকে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছু নয়। বরং পাইকারী ও গণহারে আসামী করে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকগণ। এদিকে কক্সবাজার শহরে পুলিশের নির্বিচারে গুলীতে ৪জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের ডাকা লাগাতার ৪৮ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনকালে প্রথম দিন শনিবার চকরিয়ায় সমর্থক ও পুলিশের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার পুলিশ বাদি হয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় অজ্ঞাত রয়েছে অর্ধশতাধিকেরও বেশি। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহাতীত গভীর রাতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে কোন অভিযোগে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের ছেড়ে বলে জানান ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া। পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে চিরিঙ্গা-বেতুয়া বাজার-বাঘগুজারা সড়কের চকরিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ পয়েন্টে সাঈদী মুক্তি পরিষদ সমর্থিত পিকেটাররা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় তারা বেশ’কটি সিএনজি গাড়ি আটকিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ ও আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, এদিন পুলিশ বেপরোয়াভাবে পাশ্ববর্তী এতিম শিশুদের একটি দ্বীনি শিা প্রতিষ্ঠান হাফেজখানায় হামলা চালায়। বিনা উস্কানিতে পুলিশ ১০/১৫ শিশু শিার্থীদের ল্য করে রাবার বুলেট ছোড়ে কম-বেশি আহত করে। এ ঘটনায় পরেরদিন রোববার পুলিশ বাদি হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এক’শ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছে বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
অন্যদিকে চকরিয়ায় শান্তিপূর্ণ হরতালের পিকেটিংকালে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে পিকেটার, স্থানীয় জনগণ, সাধারণ মুসল্লী ও নুরানী মাদরাসার শিশু ছাত্রদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণ, বেধড়ক লাঠিচার্জ ও অতর্কিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চকরিয়া জামায়াত নেতৃবৃন্দ। ন্যাক্কারজনক এ হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সৌহার্দপূর্ণ আচরণের আশা প্রকাশ করে চকরিয়ার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত না করার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া পৌরসভা আমীর আখতার আহমদ বিএ (অনার্স) এমএ, সেক্রেটারি মুহাম্মদ আরিফুল কবির, চকরিয়া উপজেলা দেিণর আমীর মুহাম্মদ হেদায়ত উল্লাহ, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, উপজেলা উত্তর নায়েবে আমীর মাষ্টার রফিক উদ্দিন আহমদ, সেক্রেটারি রশিদুর রহমানসহ উপজেলা ও পৌরসভা নেতৃবৃন্দ। অপর এক বিবৃতিতে কক্সবাজার-চকরিয়ার গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের চার সমর্থক হত্যাকারীদের শাস্তির দাবী জানান।
অপরদিকে জামায়াতের ডাকা ৪৮ঘণ্টা হরতালের ১ম দিন শনিবার জেলার সীমান্ত উপজেলা উখিয়ার থাইংখালী ঢালায় কতিপয় দুর্বৃত্তদের হামলায় গাড়ী ভাংচুর ও সড়ক দূর্ঘটনা সংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত-বিএনপি প্রায় ৩০জন কর্মীকে আসামী করে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে থাইংখালী গ্রাম পুরুষ শূণ্য হয়ে ভূতুড়ে গ্রামে পরিণত হয়েছে। অভাব অনটনে মানবেতন দিন যাপন করতে হচ্ছে তাদের পরিবার পরিজনদের। এ ঘটনা নিয়ে গভীর ােভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা জামায়াত-বিএনপিসহ ১৮দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে উক্ত মামলায় প্রকৃত আসামীদের আইনে আওতায় এনে নিরহ লোকজনদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানান। ওইদিন আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবীতে উখিয়ায় ৪৮ ঘন্টার হরতাল চলছিল। হরতাল চলাকালীন সময়ে থাইংখালীর ঢালায় অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত করে দুষ্কৃতিকারীরা। এ নিয়ে নিরহ লোকজনদেরকে আসামী করায় উক্ত গ্রাম জুড়ে বিরাজ করছে আতংক আর উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।
উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী রফিক উদ্দিন জানান, হরতালের পে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে বা ষ্টেশনে সরব না থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে বিএনপি’র কর্মীদের উক্ত মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবী করে নিরহ লোকজনকে মামলা থেকে অব্যহতি প্রদানের দাবী জানান।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফজল জানান, যেখানে চোর-ডাকাতের অবস্থান, সেখানে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত থাকার প্রশ্নই উঠেনা। মিথ্যা ও অযৌক্তিক মামলা দিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করার জন্য তাদের জড়ানো হয়েছে। প্রকৃত পে যারা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো নাটক করেছে তাদেরকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টিপূর্বক হস্তপে কামনা করেন।
এদিকে জেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, মেয়র সরওয়ার কামাল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জি.এম রহিমুল্লাহ সহ জেলাব্যাপি বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও এরইমধ্যে গ্রেফতারকৃদের মুক্তির দাবী করে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম আল মামুন, সেক্রেটারি অধ্যাপক সরওয়ার কামাল মনজু, জেলা জামায়াতের নায়েবে মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর, শহর আমীর অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, ছাত্রনেতা আ.ন.ম হারুন, দিদারুল ইসলাম ও ককসু’র সাবেক ভিপি মোঃ সৈয়দ করিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। একইভাবে ৬টি হয়রানিমূলক মামলায় রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, শ্রমিকনেতা, ছাড়াও জেলার ওলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসা ও স্কুল শিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন ডুলাহাজারা পীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শাহ্ আবদুর রশিদ, ওলামা-মাশায়েখ ও শিক্ষক পরিষদ নেতা চেয়ারম্যান অধ্য মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, অধ্য মাওলানা আবুল হাসান আলী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাফরুল্লাহ নূরী, অধ্য মাওলানা কফিল উদ্দিন ফারুক, অধ্য মাওলানা আবুল কালাম মুরাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল কুদ্দুস আনোয়ারী আল আজাহারী, অধ্যক্ষ মালানা আবুল বাশার, উপাধ্য মাওলানা চেয়ারম্যান বদিউল আলম, উপাধ্য মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, অধ্য মাওলানা রফিক বিন ছিদ্দিকী প্রমুখ ওলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।