ইসলামি দলের মিছিলে পুলিশের গুলি, পুরানা পল্টন ও ফরিকরাপুল এলাকায় থমথমে নিহত ০১

রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় ইসলামি দলগুলোর মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে। এ সময় নামাজীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে, জুমার নামায শেষে নামাজীরা বের হলে ২০/২৫ জনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া করে। তারা এ সময় ধাওয়া খেয়ে পুরানা পল্টনের একটি বাড়িতে (২৯/১, পুরানা পল্টন) আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে পুলিশ অভিযান চালালে একজন ওই ভবন থেকে লাফিয়ে পালাতে গেলে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ পরে সেখান থেকে ২০ জনকে আটক করে এবং লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

এর আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে জুমার নামাযের পর বের হয়ে ফকিরাপুলে ৫০/৬০ জন বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করে। সেখানেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তত শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এখন পুলিশ ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মাঝেমাঝে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুসল্লিরা নামায শেষে বের হয়ে ফকিরাপুলে আকস্মিকভাবে মিছিল করার চেষ্টা করে। এ সময় একটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

এরআগে দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের এলাকার আশপাশ থেকে নামাযিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। নামাযের আগপর্যন্ত অন্তত ৬২ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ বলছে, তাদের সন্দেহ হচ্ছে এরা জুমার নামাযের পর মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনায় এসেছিলেন।

শুক্রবার জুমার আগে পল্টন এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ-র‌্যাব। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে অর্ধশতাধিক আটক করা হয়। এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অফিস ঘেরাও করে রাখে পুলিশ।

এদিকে, পল্টনের ওয়ার্ড কমিশনার জামায়াত নেতা আব্দুর রবের বাসা থেকে জুমার পর ১৩ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাডা রাজধানীর মৎস ভবন এলাকা থেকেও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

বিশেষ করে বায়তুল মোকাররাম, পল্টন, গুলিস্তান, ফকিরাপুল, কাকরাইল ও মৎস ভবন এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়। এসব এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত তরুণদের ধরে পল্টন, শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‘নাস্তিক’ ব্লগারদের শাস্তি, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট খুলে দেয়াসহ কয়েক দফা দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেয় ৯টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘ঈমান ও দেশরক্ষা আন্দোলন’। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করার কথা থাকলেও পরে স্থান পরিবর্তন করে কালভার্ট রোড এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।