সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে:ফখরুল

বর্তমান মহাজোট সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে আমাদের প্রায় আড়াই লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কেন করেছে? কারণ আওয়ামী লীগের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না, তাই কারাগারে নিচ্ছে, গুলি করছে, গুম করছে।”

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘জয়নাল আবদিন ফারুকসহ ১৫৪ নেতাকর্মীর মুক্তি’র দাবিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “সরকার এদেশে আবার একদলীয় নির্বাচন করতে চায়। এজন্যই বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে দেয় না। আমরা নয় সরকার জুজুর ভয় দেখাচ্ছে। ওই এক জুজু খাড়া করেছেন আপনারা, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আমরাও বিচার চাই। তবে ন্যায়বিচার।”

তিনি বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে চিনি, তোমরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও অন্তরে ফ্যাসিবাদী চিন্তা। গত কয়েক সপ্তাহে পুলিশ, র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গণহত্যা চালিয়ে প্রায় ১৪০ জনকে হত্যা করেছে। গতকাল লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই কর্মীকে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে তাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে। আমার ভাবতে কষ্ট হয় যে, এ দেশের জন্যই ৪২ বছর আগে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।”

‘জয়নুল আবদিন ফারুক আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা’ বলে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “ফারুকের ওপর হামলা আজ নতুন নয়, এর আগে তার ওপর সংসদের সামনে হামলা চালানো হয়েছে। যে পুলিশ কর্মকর্তা হামলা চালিয়েছে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরস্কৃত করেছেন।”

ফখরুল বলেন, “পদ্মা সেতু এদেশের মানুষের স্বপ্ন, সে স্বপ্ন চুরি করতে পিছপা হয়নি আওয়ামী লীগ। পদ্মা সেতুতে সরকার এমন চুরি করেছে যে, বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ সরকার মহাচোর। আমরা এসব চুরি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এ মহোৎসব বন্ধ করতে এ সরকারকে উৎখাত করতে হবে। সরকারকে উৎখাত না করে বিএনপি ঘরে ফিরবে না।”

প্রতিবাদ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্যাহ বুলু বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রী এতো মিথ্যা কথা বলতে পারেন, অতীতে এমন ব্যক্তি আর এদেশে দেখা যায়নি। বাটি চালান দিলে দেখা যাবে এদেশের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী হলেন শেখ হাসিনা। তাকে মিথ্যা বলার ওপর নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ভুলু বলেন, “যখন আপনার পতন ত্বরান্বিত তখন আপনি শাহবাগ সৃষ্টি করেছেন। শাহবাগীরা আপনার পতন ঠেকাতে পারবে না। আপনার পতন হবেই। বিএনপির ১৫৪ জন নেতাকর্মীকে আটকের মধ্য দিয়ে আপনি তা নিশ্চিত করেছেন।”

বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “বিরোধী দলকে ঠেকাতে সরকার ৪০ হাজার আওয়ামী, যুব ও ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী গঠন করেছে। তাই আমাদের সামনে একদফা এক দাবি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। একদফা হলো এ সরকারের পতন ঘটানো। এটা ছাড়া আর কোনো গতি নেই।”

জয়নাল আবদিন ফারুকের মেয়ে ও মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক তামান্না ফারুক থিমা বলেন, “দেশের মানুষ আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একদিকে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি অন্যদিকে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ণ করার চক্রান্ত। বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। আমার বাবা সরকারের সেই চক্রান্তের বলি হয়েছেন।”

বক্তারা বলেন, “আজকে বৃহত্তর নোয়াখালীর নেতাদের ওপর শেখ হাসিনার আক্রোশ সবচেয়ে বেশি। কারণ নোয়াখালীবাসী খালেদা জিয়াকে ১০টি আসন উপহার দিয়েছে। তাই শেখ হাসিনা নোয়াখালীবাসীর কণ্ঠরোধের জন্য জয়নাল আবদিন ফারুককে গ্রেফতার করেছে।”

ঢাকাস্থ সেনবাগ ফোরামের সভাপতি সৈয়দ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাবুল হোসেন, আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নাজিমউদ্দিন আহমেদ এমপি, মহিলা দলের সহসভাপতি নুরুন্নাহার মাহমুদ, মহিলা দলের সদস্য শিরিন সুলতানা, জাতীয়তাবাদী মঞ্চের নেত্রী শামা ওবায়েদসহ সেনবাগ ফোরামের নেতারা বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।