হরতালের আগেই রাজধানীতে ১৪টি গাড়ীতে আগুন

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতালের আগের রোববার  রাজধানীতে এর প্রভাব দেখা গেছে। দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ১৪টি পরিবহনে আগুন দেয়া হয়েছে।

পল্টন, মালিবাগ, কাপ্তানবাজার, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, কাকরাইল, কল্যাণপুর, সেগুচ বাগিচা, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, খিলগাঁও, মিরপুর, বাড্ডা, গুলিস্তান ও সদরঘাটে এসব যানবাহনে আগুন দেয়া হয়।

এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে যান চলাচলও কমে গেছে। এছাড়া হরতালের সমর্থনে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিল করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ অন্তত ৫ জনকে আটক করেছে।

দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটের কাছে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। নিউ ভিশনের (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৬৪৪) বাসটি যাত্রী নিয়ে মতিঝিল থেকে মিরপুর যাচ্ছিল। আকস্মিকভাবে কয়েকজন যুবক এসে গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ফায়ার সার্ভিসের রমনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোস্তফা মহসিন জানান, রবিবার দুপুরে বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে মালিবাগ ও কাপ্তানবাজারে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কাপ্তানবাজারে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ রুটের বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে এসে এতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রায় একই সময়ে মালিবাগ মোড়ে বলাকা সার্ভিসের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। হঠাৎ করে ৮/৯ জনের এক দল যুবক গলি থেকে বের হয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে। এক পর্যায়ে তারা বাসে আগুন ধরিয়ে সরে পড়ে।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে ফার্মগেটের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। মতিঝিল থেকে গুলশান রুটে চলাচলকারী ৬ নম্বর বাসে হরতাল সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়।

এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাকরাইল মসজিদের সামনে ৩ নম্বর বাসে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা। দুজন হরতাল কমর্থক মোটর সাইকেলযোগে এসে বাসটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

বিকেল ৪টার দিকে কল্যাণপুর খালেক পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি যাত্রীবাসে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থরা।

এছাড়া বিকেল ৫টার দিকে কাওরান বাজারের এটিএন বাংলার কার্যালয়ের সামনে একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।

এছাড়া বিকেল ৫টার দিকে নয়াপল্টনে হরতালের সমর্থনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় লাঠিচার্জে অন্তত পাঁচজন আহত এবং দুজনকে আটক করে পুলিশ। এরআগে ফকিরাপুল মোড়ে টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টাকালে ৩ হরতাল সমর্থককে আটক করে পুলিশ।

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহজাহানপুরে হরতাল সমর্থকরা একটি মিছিল করে। মিছিলটি কিছুদূর এগোনোর পর পুলিশ ধাওয়া দিলে হরতাল সমর্থকরা পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরে পড়ে।

সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে সেগুন বাগিচায় দুর্বৃত্তরা একটি কালো রঙের জিপ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গলির ভেতর থেকে ৮/১০ জনের একদল স্লোগান দিয়ে বের হয়ে দুদদ কার্যালয়ের সামনে একটি কালো জিপ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে মিডলাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। একদল হরতাল সমর্থক মিছিল করে হঠাৎ করেই বাসে আগুন দেয়।

সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে মিরপুর ১১ নং সেকশনে মিরপুর থেকে আজিমপুরগামী সেফটি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরুল বাড্ডায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। তিনটি মোটরসাইকেলে চেপে ছয় যুবক বাসটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গুলশান ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সদরঘাটে সুতাবাহী একটি পিকআপে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। সদরঘাটের গ্রেটওয়াল মার্কেটের বিপরীতে পিকআপ থেকে সুতা নামানোর সময় হরতাল সমর্থকরা তাতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

এছাড়া গুলিস্তান নগর ভবনের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। রাত পৌনে ৮টার দিকে দেয়া আগুনে বাসটির শতভাগ পুড়ে গেছে বলে দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামী সোম ও মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।