গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর মধ্য দিয়ে ১৮ দলের হরতাল চলছে

গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু। পেট্রোল বোমায় ঝলসে গেছে তিন চিকিৎসকের শরীর। চলছে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। এই চিত্র কেবল রাজধানী ঢাকার নয়, সারা দেশের। আগের দিনেই হরতালের উত্তাপে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দেশবাসী।

এর মধ্যেই সোমবার সকালে শ্যামলীতে গাড়ি ভাঙচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। পল্লবীতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি হাতবোমা ফাটিয়েছে পিকেটারার। পান্থপথে শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। খিলগাঁওয়ে বাসে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন আছে।

রাজধানীর শ্যামলীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের সময় পুলিশের দিকে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। পল্লবীতে হাতবোমা বিস্ফোরণ, ককটেলসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে। পান্থপথে গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। খিলগাঁও এবং শ্যামপুরে ট্রাক ও হিউম্যান হলারে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।

রাজধানীর অন্য কোথাও এখনও হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। মিরপুর, ফার্মগেট, প্রেস ক্লাব, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ প্রধান প্রধান সড়কে কিছুসংখ্যক গণপরিবহণ চলাচল শুরু হয়েছে। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতি খুবই কম।

এদিকে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা অবস্থান নিয়েছেন।

হরতালের আগে রোববার দুপুর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর রাজধানীতে বিজিবি টহল দেয়।
হরতালের আগের রোববার রাজধানীতে এর প্রভাব দেখা গেছে। দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ১৪টি পরিবহনে আগুন দেয়া হয়েছে।

পল্টন, মালিবাগ, কাপ্তানবাজার, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, কাকরাইল, কল্যাণপুর, সেগুচ বাগিচা, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, খিলগাঁও, মিরপুর, বাড্ডা, গুলিস্তান ও সদরঘাটে এসব যানবাহনে আগুন দেয়া হয়।

এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে যান চলাচলও কমে গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।