মানহানির মামলায় বঙ্গবীরের জামিন লাভ

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মানহানি মামলায় নিজ জিম্মায় জামিন পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার সকালে পুরান ঢাকার কোর্টকাচারি এলাকায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান কাদের সিদ্দিকী। তিনি কাউকে আইনজীবী নিয়োগ না দিয়ে নিজেই জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানিতে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আত্মসমর্পণ করিনি। আদালত আমার প্রতি সমন জারি করেছেন। তাই আমি এসেছি। আমি জামিনের আবেদন জানাচ্ছি।’

মহানগর হাকিম হারুন অর রশীদ শুনানি শেষে কাদের সিদ্দিকীকে জামিন দেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধকালে ময়মনসিংহে রাজাকার বাহিনী গঠনে জড়িত থাকার অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ।

বঙ্গবীর বলেন, ‘রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাইরে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যায় না।’

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হাতিরপুলের বাসিন্দা রুহুল আমিন মুজমদার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষ নিয়ে বঙ্গবীরের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতিটি পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, তা প্রমাণিত।’

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর শুধু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, তিনি অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ এবং জনপ্রিয় লেখক, যোগ করা হয় আবেদনে।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করার জেরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে কাদের সিদ্দিকীকে জাতীয় সংসদে ধিক্কার জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। পাটমন্ত্রী ও বঙ্গবীর সহোদর।

এ ছাড়াও শাহবাগকারীদের মঞ্চ থেকে সরকারপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক নব্য রাজাকার বলে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।