গাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা, দোষ চাপছে জামায়াত-শিবিরের উপর

৭১এ মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগের ধোয়া তুলে সম্প্রতি সরকার ও হঠাৎ করে গজিয়ে উঠা শাহবাগীদের প্ররোচিত ট্রাইব্যুনালে বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন অল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষনা করে। এই প্রহসন মূলক রায়ের বিরোধীতা করে দেশের লাখো-কোটি সাঈদী ভক্ত ও আপামর জনসাধারণ ব্যাপক ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। কথিত এ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া রায়ের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে সাধারণ মুসলিম জনতা ও লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি রাস্তায় নেমে আসে মিছিলে মিছিলে শ্লোগান নিয়ে। বিশেষ করে ‘মা জননী’ ও ‘শিশুদের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা ও ওয়াজ নসীহত বিভিন্ন তাফসীর মাহফিলে বয়ান করায় দেশের নারী সমাজের বৃহত্তর একটি অংশ আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি পরম অনুরাগ, শদ্ধা ও ভক্তি পোষণ করেন। ফলে এই সাঈদী মুক্তি আন্দালনে শরীক হয়েছিলেন হাজারো নারী ও শিশু। সড়কে ঝাড়– মিছিল, বিক্ষোভ ও অবরোধ ডেকে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে এখনো লাখো লাখো জনতা। জনতার নেতা আজ জনতার মাঝে ফিরবেই সেই প্রত্যাশায় সাঈদীর মুক্তি আন্দোলনে সাঈদী ভক্তরা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এদিকে জনতার নেতা আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে দেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রাজশাহী সহ আরো বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোব্ধ জনতা গাছের গুড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখে সড়ক জনপথ। অন্যদিকে বিক্ষোব্ধ জনতার এই গণবিস্ফোরণ ও গণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করে একটি কুচক্রি মহল। সুযোগ বুঝে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা শহীদ মিনার ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া সহ নানা অপকর্মে হাতে নাতে ধরা পড়লে মিড়িয়ার সামনে পাগল বলে স্বীকারোক্তি দিয়ে গা ঢাকা দেয় অপরাধীরা। একদিকে আল্লামা সাঈদীর মুক্তিতে গণ আন্দোলন ও অন্যদিকে সরকার প্ররোচিত কথিত ‘গনজাগরণ’র নামে শহীদ মিনার ভাঙচুর, সংখ্যালঘু নির্যাতন সহ নানা অরাজকতার মাঝখানে দুর্বৃত্তরাও থেমে নেই তাদের অরাজক কর্মকান্ডে। আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে যেসব জেলায় আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে সেসব জেলার প্রধান সড়কের দুই পাশে ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী বিশাল যে রেইনট্রিগুলো ছিল তাদের মধ্যে অনেকগুলি গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা প্রথমে সড়কের গাছগুলি কেটে আন্দোলনকারীদের গাছের গুড়ির সাথে সড়কের উপরেই ফেলে রাখে। ৬ মার্চের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে শাষকদলীয় নেতাকর্মীরা কর্তনকৃত গাছ ও গাছের গুড়িগুলি ভোগ করতে চুরি করে নিয়ে যায়। যা গতকালের একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। তবে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে অবরোধে কক্সবাজার অঞ্চলে কোন ধরণের গাছ কর্তনের মত ঘটনা ঘটেনি বলে জানান, কক্সবাজারের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (দক্ষিণ) বিপুল কৃষ্ণ দাশ। জানতে চাইলে তিনি আরোও বলেন, বনবিভাগের কোন গাছ কর্তন করা হয়েছে এমন দৃশ্য আমাদের চোখে পড়েনি। এবং বনবিভাগের একটি গাছও আন্দোলনকারীরা কর্তন করেনি বলে নিশ্চিত করেন। উখিয়া ও টেকনাফ উভয় থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, গাছ চুরি বা গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোন মামলা রজু করা হয়নি। তবে টেকনাফে ২০টির মত গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করে সেদিনের আন্দোলনকারীরা। টেকনাফ বাহারছড়ার দিকে ২-৩ টি গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করার ব্যাপারটিও জানান তিনি। তাই আন্দোলনকারীদের রিরুদ্ধে গাড়ী ভাঙচুরের ২টি মামলা রয়েছে বলে জানান।
এদিকে আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, আমরা গাছের গুড়ি ও নিজেদের গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করি। সরকারী কোন গাছ আমরা কাটিনি। যদি সরকারী বা বনবিভাগের কোন গাছ কাটতাম বা চুরি করতাম তাহলে বনবিভাগ অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করত। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে আমাদের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে দুর্বৃত্তরা শাষকদলীয় নেতাকর্মীদের পশ্রয়ে সরকারী গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। এবং এর দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এধরণের ঘটনা ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো’ ছাড়া আর কিছু নয়।
সাধারণ জনতা আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে নিজেদের মালিকানাধিন কিছু বাড়ন্ত গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে বলেও জানান সাঈদী মুক্তি পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
গাছ নিধন করার ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরকে জড়িয়ে গতকাল একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ‘গাছ নিধন’র ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃন্দ জানান, গাছ নিধন নয় বরং আমরা প্রতিবছর বৃক্ষ রোপন অভিযান চালিয়ে আসছি। প্রতিবছর সারাদেশে কমপক্ষে ১ লক্ষ বৃক্ষ রোপন করে থাকি। সুতরাং আমরা গাছ নিধনের পক্ষে নই। তবে আল্লামা সাঈদীর মুক্তির আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সাধারণ জনতা ও সাঈদী ভক্তরা কিছু গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করেছিল।

শাহনেওয়াজ জিল্লু
কক্সবাজার
০১৬৮২৭৯৩৫১২
২১.০৩.১৩ ইং

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।