প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমলোচনায় আইনজীবীরা: ভারতে গিয়ে মানসিক চিকিৎসার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে গিয়ে মানসিক চিকিৎসা করানোর আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। ‘আপনি পিয়ারা পাকিস্তানে চলে যান’- বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যকে আবল-তাবোল বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এই আহ্বান রাখা হয়। বৃস্পতিবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টে সমাবেশ করছিলেন তারা। বক্তারা বলেন, ‘আপনার (শেখ হাসিনা) মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ভারতে অনেক আধুনিক মানসিক হাসপাতাল আছে, আপনি সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসুন। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারতি আফজাল হোসেন এক রায়ে বলেছিলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) একজন wrong headed women।’
আজ বৃহস্পতিবার টানা হরতালের দ্বিতীয় দিনে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি ভবনের সামনে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি চেয়ারপরসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ইসলামিক লইয়ার্স ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, অ্যাডাভোকেট আনোয়ারা শিখা প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদা আলী। সমাবেশ শেষে উপস্থিত শতাধিক আইনজীবী বার সমিতি ভবনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৫ সালে জামায়াত ইসলামীকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। তখন পার্লামেন্টে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন ছিল না। তাই ইচ্ছা থাকলেও বেগম জিয়ার পক্ষে সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনা সম্ভব ছিলনা। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রফিকুল ইসলাম মিয়া আরো বলেন, বেগম জিয়া তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রণয়ন না করলে আপনি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারতেন না। অথচ ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে আপনি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিলেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট ছিল আরো দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু আপনারা (সরকার) সে নির্দেশনা মানেন নি। তাই দেশে যদি কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হয়, গণতন্ত্র না থাকে তবে সে জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী থাকবে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, বেগম জিয়া একজন গণতন্ত্রমনা মানুষ। তিনি সেনাবাহিনীকে নিয়ে বগুড়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চায় না, তারাই সেনাশাসন চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘণ করে বিচারপতি নিয়োগের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের পরিণতি ভালো হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।