কুমিল্লায় ১৮ দলীয় জোটের হরতাল : ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি, আহত ১৫

তত্বাবধায়ক সরকার পুনঃবহাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-খুলনা-সিরাজগঞ্জে সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাত জন নিহতের প্রতিবাদ, হত্যা, গুম, জুলুম, শিবির সভাপতি গ্রেফতার, আটককৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অফিসে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কুমিল্লায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার হরতালের শুরুতেই হরতাল সমর্থকরা রেললাইনের ফিশপ্লেট তুলে নেয়। এতে ভোর পৌনে ৫টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় তূর্ণানিশীথা লাইনচ্যুত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রামগামী তূর্ণানিশীথা একপ্রেসের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর সারাদেশে রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অšতত ২০ জন। আটকা পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তিনটি ট্রেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের রেল যোগাযোগ।
এদিকে সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হয়। তবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এছাড়া সকাল আটটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচংয়ের সৈয়দপুরে শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়লে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সেখানে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রশিবির দাবি করেছে পুলিশ সেখানে গুলি ছুড়লে তাদের চার নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা মহানগরীর চকবাজার, রাজগঞ্জ, কুমিল্লা টাওয়ারের সামনে সকাল থেকে পিকেটাররা অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছে। এছাড়া নগরীর পূবালী চত্বর, ধর্মপুর, পুলিশ লাইন, টমছমব্রীজ, চকবাজার, কান্দিরপাড় এলাকায় বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদল পৃথক পৃথক মিছিল বের করে। হরতালে নগরীর সকল মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন রা¯তায় ছোট খাটো যান অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল চলাচল করেছে।
কুমিল্লার ৩টি আšতঃজেলা বাসটার্মিনাল (চকবাজার, শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া) ঘুরে দেখা গেছে সেখান থেকে দুরপাল্লাসহ কোন বাস ছেড়ে যায়নি।  অফিস আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
এদিকে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার বাজারে রা¯তায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছ পেলে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা শিবির সভাপতির মুক্তির দাবীতে কুমিল্লা দক্ষিন জেলা প্রচার সম্পদাক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ পূর্বের শিবির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারী আশেক এলাহী, জামায়াত নেতা ডা: আবুদর রব, শিবির নেতা হাছান মাহমুদ, জিল্লুর রহমান, আবুল বাশার, আনোয়ার হোসেন, সহ জামাত শিবিরের নেতৃবৃন্দ ।

এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের মিয়াবাজার জামায়াতকর্মীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
এছাড়া হরতালের সমর্থনে সকাল থেকেই কুমিল্লা – নোয়াখালী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোটে, মুরাদনগর, হোমনা, বুড়িচং, লাকসাম, চান্দিনা ও দাউদকান্দিতে হরতাল সমর্থকদের পিকেটিং করার খবর পাওয়া গেছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে দুরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করছে না। তবে সিএনজি, মোটর সাইকেল চলাচল করেছে। এতে যাত্রীরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।