আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদামে আগুন

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফায়র সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বিমানবন্দরের ৮ নং গেট সংলগ্ন আমদানি কার্গো রাখার স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। দমকল বাহিনীর প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সাময়িক বন্ধ করে দেয়া ফ্লাইটগুলো ফের ওঠানামা শুরু করেছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নং গেট সংলগ্ন আমদানি কার্গোতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট দুপুর দেড়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। র‌্যাব-পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।

বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার ঘটনায় বিমান ওঠানামা সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে এখন আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এরআগে রানওয়েতে অপেক্ষমাণ এয়ারক্রাফটগুলো নিরাপদস্থলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া আগুন লাগার পর আনসার ক্যাম্প থেকে মালমাত্র বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়।

তবে আগুন সত্ত্বেও এয়ার লাইন্সগুলোর ফ্লাইট ওঠানামায় কোনো সমস্যা হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় নির্ধারিত সবগুলো ফ্লাইটই অবতরণ ও উড্ডয়ন করে।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার আনিস বলেছেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় আগুন লাগা সত্ত্বেও যাতে ফ্লাইট বন্ধ না হয় সে চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সবগুলো ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ ও উড্ডয়ন করেছে।’

আগুন নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার মধ্যে শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে শাহজালালে অবতরণ করে চায়না সাউদার্নের একটি উড়োজাহাজ, ২টা ১৫ মিনিটে অবতরণ করে সাউদিয়ার একটি এবং ২টা ২৬ মিনিটে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট।

প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ হিসেবে দমকল বাহিনী জানিয়েছে, কার্গো গুদামের আমদানি শাখায় রাসায়নিক কাঁচামালে আগুন লাগায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে।

আমদানি শাখায় প্রায় ৪৮টি কুরিয়ারের মালামাল আসে। এর মধ্যে ডিএইচএল, ফিডেক্স’র মতো কুরিয়ারের পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কাপড়, সূতা, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল রয়েছে।

এরআগে পুরো বিমানবন্দরে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কর্মস্থলের বাইরে বেরিয়ে আসেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।