বিএনপির সমাবেশ স্থগিত,আসতে পারে হরতালের ডাক

আটক শীর্ষ নেতাকর্মীদের আজ রবিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে মঙ্গল ও বুধবার হরতাল দিতে পারে প্রধান বিরোধী জোট। বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই ১৮ দলীয় জোটের সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশান দফতরে জোট নেতাদের ও পরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের সামনে অনুষ্ঠিতব্য জোটের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রাত সোয়া ৯টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এরপর ১৮ দলের বৈঠক শুরু হয়ে সোয়া ১১টায় শেষ হয়।

বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী দিনের কর্মসূচি এবং হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার হেফাজতে ইসলামের হরতালে নৈতিক সমর্থন দেবে বিএনপি। এ ছাড়া আগামীতে তারা যে কর্মসূচি দেবে তাতেও তাদের সমর্থন থাকবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ধারণা আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন দেয়া হবে না। এ জন্য দুদিনের হরতালের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা হয়েছে।

আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করে রবিবার রাতে আবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। নেতাদের জামিন দিলে ভিন্ন কর্মসূচি আসতে পারে।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব:) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সারোয়ারি রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে জোট নেতারা কর্মসূচি নির্ধারণের ভার খালেদা জিয়াকে দেন। নেতারা হরতালসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার পরমার্শ দেন।

জানা গেছে, বৈঠকে কয়েকজন নেতা হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ সফল হলেও কর্মসূচি দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। এ বক্তব্যের সাথে বেশির ভাগ নেতাই একমত পোষণ করেন। তবে খালেদা জিয়া কোনো মন্তব্য করেননি।

ওই বৈঠকেও খালেদা জিয়া সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জামায়াত নেতা আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিস চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।