খালেদাকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে’ এমন গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘১৮ এপ্রিলের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে’ এমন গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়েছেন।

বুধবার রাত সোয়া ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার, দলের কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং পরবর্তী কর্মসূচিসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন বিশেষ মতলবে সরকারের পক্ষ থেকেই খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোবল ও একতা নষ্ট করতে চায় সরকার। কিন্তু চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তারের অনুকূল পরিস্থিতিতে নেই সরকার।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের নেতাদের মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল দেশব্যাপী ৩৬ ঘন্টা ডাকার ব্যাপারে আলোচনা হয়।

এছাড়াও এ মাসের শেষে দিকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন করার ব্যাপারেও আলাচনা হয়। এ সময় বলা হয় আগামী ২১ এপ্রিল দলীয় শীর্ষনেতাদের জামিন না পেলে ২২ এপ্রিল থেকেই সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করা যেতে পারে। হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও এসব ব্যাপার সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি  বৃহস্পতিবারের ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ ও বেগম সারোয়ারী রহমান। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা।

অসুস্থতাজনিত কারণে বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেনি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ও এম শামসুল ইসলাম।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।