বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ৩ আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের একটি হরতাল বিরোধী মিছিল শেষে সমাবেশে আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং মাদ্রাসায় হামলা করবে শুনে একলাকাবাসী ও মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই হামলার ঘটনায় অন্তত পঞ্চাশজন মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বিবিসিকে জানান, “বৃহস্পতিবার রাতে আমরা জেনেছিলাম সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। কিন্তু আজ সকালে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে এক হাজার সমর্থক বৃহস্পতিবার ফটিকছড়িতে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি দুপুরে ভুজপুর ইউনিয়নের কাজিরহাট বাজারে উপস্থিত হয়।
এ সময় সেখানে গুজব ছড়ানো হয় যে, মিছিল নিয়ে এসে মাদ্রাসাও মসজিদে হামলা করা হচ্ছে। এরপরে লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিলের উপর হামলা করে। কয়েকঘন্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ সুপার  বলেন, আওয়ামী লীগের এই হরতালবিরোধী মিছিলে জামায়াত শিবির সমর্থকরা হামলা চালায়।
সেখানে একটি গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে, মসজিদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো একজন মারা গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তাদের সবার শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগের কর্মী বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় মিছিলের সঙ্গে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল, কয়েকটি পিকআপসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
সেখানে র‍্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।