ছাপাখানায় তালা, বিশেষ ব্যবস্থায় ‘আমার দেশ’ প্রকাশ

সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক আমার দেশের ছাপাখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। কোন আদালতের বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কোন আদেশ বলে ছাপাখানাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ।

এমন পরিস্থিতিতে ‘বিকল্প ব্যবস্থা’য় শুক্রবারও পত্রিকাটি প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ  জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থায় আমার দেশ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, নিজেদের ছাপাখানা বন্ধ থাকায় পাঠকের চাহিদার অনুসারে বেশি সংখ্যক পত্রিকা বের করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচকের ভূমিকা নেয়ায় দৈনিকটি বর্তমানে প্রচুর জনপ্রিয়। বিশেষত পাঠকপ্রিয় এই পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা সম্প্রতি দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

এরআগে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে একটি দল রাত ৯টার দিকে অভিযান শুরু করে। রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযান শেষে ছাপাখানা তালাবদ্ধ করে দেয়। অভিযানে ছাপাখানার ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশের ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস খান আরটিএনএন-কে বলেন, সংবাদকর্মী ও ছাপাখানার কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ছাপাখানায় তালা মেরে দেয় পুলিশ।

এদিকে, ছাপাখানায় পুলিশ তালা ঝুলানোর পরপরই সরকার সমর্থক সংবাদমাধ্যমগুলো আগাম খবর প্রকাশ করতে শুরু করে যে পত্রিকাটি শুক্রবার প্রকাশ হচ্ছে না। সম্প্রতি সরকারের প্রতি সমালোচনহীন সমর্থনের পাল্লা দিতে গিয়ে পাঠক ও দর্শক-শ্রোতা হারাচ্ছে এসব সংবাদ মাধ্যম।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আমার দেশ পত্রিকার কাওরান বাজার কার্যালয় থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের স্কাইপ কেলেঙ্কারি প্রকাশ, কথিত ধর্মীয় উস্কানি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এরপর বিকেলে পৃথক তিনটি মামলায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম সহিদুল ইসলাম মাহমুদুর রহমানের ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ে’র কথিত দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ২০১২ সালে পহেলা জুন এক নির্বাহী আদেশে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে আবার প্রকাশনা শুরু হয়।

ওই সময় পত্রিকা বন্ধের পরদিন ২ জুন ভোরে মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকার কার্যালয় থেকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ওইদিনই একটি মামলা দায়ের করা হয়। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়।

ওই বছরের ১৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদালত আবমাননার দায়ে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেন। এ মামলায় তিনি ৭ মাস কারাভোগ করে ২০১১ সালের ১৭ মার্চ মুক্তি পান।

মাহমুদুর রহমান ২০০৮ সালে আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। ওই সময় থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।