জয়নাল হাজারীর টকশো ফেনীতে ‘টক অব দ্য টাউন’

দীর্ঘদিন পর ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান আওয়ামীলীগ নেতা ও দৈনিক হাজারীকা প্রতিদিন’র সম্পাদক জয়নাল হাজারীর টকশো ফেনীর সর্বত্র ‘টক অব দ্য টাউন’ এ পরিনত হয়েছে। সাংবাদিক সরোয়ার খানের উপস্থাপনায় একটি বেসরকারী টেলিভিশনের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে নীতি নির্ধারনী টকশো অনুষ্ঠানে রবিবার রাত ১০ টায় ওই অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। এছাড়া ওই আলোচনায় যোগ দেন আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান। খোলামেলা আলোচনা করেন জয়নাল হাজারী।
খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার গুজব প্রসঙ্গে জয়নাল হাজারী বলেন, তিনি গ্রেফতার চান না। কারণ তাকে গ্রেফতার করা হলে জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে। এমনিতে খালেদা জিয়া মানষিকভাবে অসুস্থ। দূর্বল হয়ে গেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে ময়দানে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই খালেদা জিয়া আমাকে ফেনী ছাড়া করেছে। আমার বিরুদ্ধে ৩৫ টি মামলা দিয়েছে। বাড়ী-ঘর তছনছ করেছে। তারপরও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন। তিনি মনে করেন, সরকার এই ধরনের ভূল সিদ্ধান্ত নিবেন না।
জয়নাল হাজারী আরও বলেন, তিনি একজন সম্পাদক হিসেবে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার কোনভাবেই সমর্থন করেন না। কিন্তু মাহমুদুর রহমান যে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বর্হিভূত সংবাদ পরিবেশন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এনে উস্কানী দিয়েছে অবশ্য তা নিন্দনীয়। সরকার হেফাজতের সমাবেশের আগে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করলে দেশে এ বিশৃঙ্খলা হত না।
টেলিফোনে দর্শকের প্রশ্নের জবাবে হাজারী বলেন, ফেনীতে আগেরমত পূবালীর আয়োজনে মাষ্টার পাড়ার মুজিব উদ্যানে বৈশাখের মেলা হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে আগামী বছর মেলার আয়োজন করা হবে।
ফেনীতে আবার কখন ফিরছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নাল হাজারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘আসিয়াছে শুভ দিন, দিনে দিনে শোধিত হইবে এ ঋণ’, নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন চাইবেন তখন তিনি ফেনীতে আসবেন। আবার ফেনী আওয়ামীলীগের হাল ধরবেন। ফেনীর পুরাতন আওয়ামীলীগকে উজ্জ্বীবিত করে দলকে সুসংগঠিত করবেন।
হাজারী বলেন, নববর্ষের এ দিনটিতে মৌলবাদীরা কোন হামলা করেনি। এ দিনে একদিকে আনন্দ হলেও অন্যদিকে বেদনা বিধুর। ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যখন জামায়াত-শিবির হামলা চালিয়ে গণজাগরন মঞ্চে তান্ডবলীলা চালায় তখন লজ্জ্বায় মাথা নুয়ে আসে। মনে হয় এখনই ছুটে যাই, ওই মৌলবাদী চক্রের বিরুদ্ধে ৭১’র মত যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। কিন্তু ফেনীর হাইব্রিড সিন্ডিকেট নেতারা জামায়াত-শিবিরের সাথে তোষামোধ তাদের প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। আর জামায়াত নেতারা তাকে ‘গুড ফাদার’ ও ‘ভাই-ভাই’ বলে সম্বোধন করছে। অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে ফেনীর নেতারা পানি, খাবার ও গাড়ী সরবরাহ করে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করছে। একদিকে বিএনপি, জামায়াত-শিবির, হেফাজতে ইসলাম সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা কুটকৌশল করে আসছে। বিগত ৩ মাস যাবত দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও লুটপাট করছে। একের পর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ফেনীর জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসায় অভিযান চালাতে পুলিশের উপর হামলা করে শিবির ক্যাডাররা। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ অবস্থায় ভয় পেয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পিছু হটলে চলবে না। সকল মনোবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে।

এর আগে বেসরকারী টিভি চ্যানেল আরটিভি ও মাইটিভিতে হাজারীর টকশো প্রচার না করতে বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ কারনে রবিবারের টকশো নিয়ে ফেনী আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উৎসাহ কমতি ছিল না। টকশো প্রচারের পর ফেনীর সর্বত্র ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এটি পরিনত হয় ‘টক অব দ্য টাউন’ এ।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।