এক যুগেও লাকসাম-মনোহরগঞ্জ জাতীয় পার্টির কমিটি গঠিত হয়নি

মহাজোটের অন্যতম শরীকদল জাতীয় পার্টি এখন লাকসাম-মনোহরগঞ্জে নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১ যুগ ধরে দলের কোন কাউন্সিল বা কমিটি হয়নি। যার ফলে দলের নেতাকর্মীরা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে দলে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এছাড়াও দলে থাকা বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে চলে যাওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি।
দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফাকে আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক ভাবে মনোনয়ন ঘোষনা করলেও প্রফেসর গোলাম মোস্তফার সাথে এ আসনে দলের নেতাকর্মীদের বিরাট দূরত্ব রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে তার কোন যোগাযোগ না থাকায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন আর চোখে পড়ছে না। এখানে দলের ভিতর রয়েছে ব্যাপক কোন্দল। কোন্দলতার কারনে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে অনেকে দল ত্যাগ করা শুরু করেছেন। আবার অনেকেই নীরব হয়ে পড়েছে। এ কারনে তিনি বর্তমানে এলাকায় আসা যাওয়া ও প্রচার প্রচারনাও বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্র্টি এখন মারাত্মক ভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে গ্র“পিং ভাইরাসে। এক সময় গ্রাম-গঞ্জে জাতীয় পার্টির ব্যাপক সমর্থন থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের এক শ্রেণীর কিছু সুবিধাভোগী নেতা ও আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থী প্রফেসর ড. গোলাম ম্স্তোফার সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম না থাকার কারনে দলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন সাধারন কর্মী ও সমর্থকরা। ১৯৯০ এর পর দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কারাগারে থাকায় দলের দূর্দিনে জাসদ নেতা আবদুল খালেক দয়াল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে ছিটকে পড়া জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করে দীর্ঘ ১ যুগ ধরে লাকসাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দলকে আগলে রেখেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বচনের পর এক শ্রেণীর কিছু সুবিধাভোগী নেতা আবদুল খালেক দয়ালকে সরিয়ে মনগড়া একটি কমিটি করে। যা বর্তমানে শুধু নাম সর্বস্ব কমিটি। ওই কমিটি থেকে আবদুল খালেক দয়ালকে সরিয়ে দেয়ার পরই মূলতঃ ভেঙ্গে পড়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনীতি। আবদুল খালেক দয়াল বর্তমানে কোন দলে না গেলেও জাতীয় পার্টির রাজনীতি থেকে অনেকটা নীরব রয়েছেন। তার নিরবতার কারনে দলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী ও সাধারন সমর্থকরা।
এদিকে দীর্ঘ ১ যুগ আগে লাকসাম- মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির কমিটি গঠন হলেও ওই কমিটি এখন নাম মাত্র কমিটিতে পরিনত হয়েছে। ওই কমিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ রফিকুল হোসাইনকে সভাপতি ও শিল্পপতি মোঃ শাহ আলমকে সাধারন সম্পাদক করা হয়েছিল। দলের সভাপতি ডাঃ রফিকুল হোসাইন বার্ধ্যক জনিত ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে সরে রয়েছেন। অসুস্থ্যতার কারনে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সময় দিতে না পেরে এখন যোগাযোগও ছেড়ে দিয়েছেন। সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম কমিটি গঠনের এক বছর পরই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তখন নেতৃত্ব সংকটে ঝিমিয়ে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। এরপর উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম ভূঁইয়া কিছুদিন দলের কার্যক্রমে এগিয়ে আসলেও সম্প্রতি ঢাকায় দলের এক মতবিনিময় সভায় দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে কুটক্তি করে বক্তব্য দেয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে দলে চলছিল নানা গুঞ্জন। দলের একটি অংশ আবুল কাশেম ভূঁইয়ার নেতৃত্বকে যুগপোযুগী বলে সমর্থন জানালেও দলের অপর অংশ তাকে বহিস্কার করায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ফলে দলের ভিতর দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে দলের ভিতর চলছে চরম কোন্দল। এর মধ্যে দলে হালধরা উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম ভূঁইয়া বহিষ্কার হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ে মারাত্মক ভাবে। ওই মূহূর্তে নেতৃত্ব সংকটে পড়ে লাকসাম- মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি। একেক নেতা একেকটি গ্র“প নিয়ে নিজ অবস্থান তৈরি করতে চাইলে দলের ভিতর দেখা দেয় ভাঙ্গন। এই ভাঙ্গনের খেলায় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফার ইশারাকে দায়ী করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানিয়েছেন প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফা একেক সময় একেক গ্র“পের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে ধবংস করেছেন লাকসাম- মনোহরগঞ্জ জাতীয় পার্টির রাজনীতি। তিনি ঢাকায় বসে এখানকার কিছূ ছিটকে নেতাকর্মীর কথায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফার বাড়ী কুমিল্লা-৯ আসনের মনোহরগঞ্জ উপজেলায় হলেও ওই আসনের দুই উপজেলার কোন কমিটিতেই তাকে পদায়ন করা হয়নি।
এদিকে জাতীয় পার্টি মহাজোটের অন্যতম শরীকদল হলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে লাকসাম- মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মহাজোটের সকল কার্যক্রম ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় দলের নেতৃত্ব সংকটকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ সব বিষয়ে প্রফেসর ড.গোলাম মোস্তফার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার বক্তব্য নেযার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।