রাজনীতিবিদদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই দেশে অরাজকতার সৃষ্ঠি হচ্ছে: যোগাযোগমন্ত্রী

রাজনীতিবিদদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই দেশে অরাজকতার সৃষ্ঠি হচ্ছে  বলেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যার ফলে সাধারণ মানুষ রাজনীতিবীদদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। নেগেটিভ ধারণার জন্ম নিচ্ছে। তিনি বলেন, এই অবস্থার প্রতিফলন দেখা যায় বিভিন্ন নির্বাচনে। একেকবার একেক দলকে নির্বাচিত করে জনগণ।

শুক্রবার বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘জনগণের অধিকার ও আন্দোলন: সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবেদ খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেমিনারে বিশ্বয়ানের শিশুরা এবং শাহবাগের আন্দোলন শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির শিক্ষক ড. জিয়া রহমান এবং ‘প্রেক্ষিত:জনগণের অধিকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য কমিশনের তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

যোগাযোগমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, শিক্ষকরা যদি রাজনীতি করে তাহলে শিক্ষকতা করবে কে? বর্তমানে শিক্ষকরা ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি করে। আর এর নাম দেয়া হয়েছে ছাত্ররাজনীতি।

তিনি একে ব্যঙ্গ করে বলেন, এর নাম দেয়া উচিত ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি। শিক্ষকরা ছাত্রদের ব্যাবহার করে তাদের একেকটা ক্যাডার তৈরি করছে। কিন্তু এ ক্যাডার হয়ে লাভ নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির কারণে রাজনীতিবিদরা বর্তমানে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতিদিন যেখানে সেখানে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীর চিত্র চোখে পড়ে। বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে তারা মধ্যযুগের বর্বরতা প্রকাশ করেছে। এ সন্ত্রাসীরা যে সংগঠনের হোকনা কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, শুধু বহিষ্কার করলেই হবে না। এদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, বর্তমানে রাজনীতি হচ্ছে আপসের রাজনীতি। সর্বক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিভাজন দেখা যায়। এগুলো রাজনীতির ধর্ম ও চরিত্রকেই নষ্ট করছে।

তিনি বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা সংবিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটা যখনই উপস্থাপন করা হয়েছে, তখনই এটা প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সরকার এ কাজটি করেনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনীতিবিদরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। গণমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের প্রত্যাশার কোনো মিল নেই। এ কারণেই কোনো রাজনৈতিক দল একাধারে দুবার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।