এই সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় হবে,তত প্রাণ বাঁচবে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার দেশের মানুষকে সন্ত্রাস, খুন ও গুম উপহার দিয়েছে। এ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আপনারা দেখেছেন, এরা ক্ষমতায় এসেছে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে, আর ২৫ ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর ঘটনায় ৫৭ জন অফিসার খুন হয়েছেন। রক্তে হাত রঞ্জিত করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আবার এখন তারা রক্তহাতে বিদায় নেবে।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ডেসটিনির টাকা, শেয়ারমার্কেটের টাকা, হল-মার্কের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা চুরি করেছে। এই টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে।” কাঁচপুরের বালুর মাঠে শ্রমিক দল আয়োজিত মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার নাম সাভার যুবলীগের কমিটিতে নেই—সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই বক্তব্যের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাভারের সাংসদের সঙ্গে সোহেল রানার সখ্যের ছবি আমরা পত্রিকায় দেখেছি। তিনি কোথা থেকে কোন তালিকা এনেছেন তা দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে মিথ্যা বলেছেন। আপনারাই বলেন একজন প্রধানমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ বললে দেশের কি অবস্থা হবে।”

সাভারে ভবনধসের ঘটনায় সরকার লাশ লুকিয়ে ফেলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই সরকার আসার পর শ্রমিকদের জন্য কিছুই করে নাই, বরং শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে। এই সরকার আসার পর কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস দিতে পারছে না।” আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজির জন্য কেউ ব্যবসা চালাতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় এলে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। দুর্নীতি, ব্যর্থতা আর লুটপাটের জন্য কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া বলেন, “লাশের মিছিল আর স্বজনদের আর্তনাদে মে দিবস পালিত হচ্ছে। যারা নিহত হয়েছে, তাদের অত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”

খালেদা জিয়া বলেন, “সাভারে রানা প্লাজায় শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে হত্যা করা করেছে। এই সরকার সরকার খুনি সরকার। এই সরকার অপয়া সরকার। এরা ক্ষমতায় আসার পর মানুষ মরছে আর মরছে। এরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি। এই সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় হবে,তত প্রাণ বাঁচবে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই হত্যাকারী সরকারকে বিদায় করতে হবে।”

খালেদা আরো বলেন, “সরকারি দলের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ। কীভাবে এই সরকারের আমলে মানুষ নিরাপদে থাকবে! শ্রমিকেরা আজকে পেট ভরে দুই বেলা খেতে পারছে না, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছে না।”
 

সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।