১৮ দলীয় জোটের ১ম দিনের হরতালে অচল চকরিয়া

আঠারো দলীয় জোটের ডাকা দু’দিনের আজ বৃহস্পতিবার ও গতকাল বুধবার হরতালের প্রথমদিনে অচল হয়ে পড়ে চকরিয়া উপজেলা। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করেনি দুরপাল্লার কোন পরিবহন। দেখা মেলেনি পৌর শহরের চিরিঙ্গায় আভ্যন্তরীণ সড়কে উল্লেখযোগ্য পরিবহন সার্ভিসগুলোর। চলে বিদ্যুৎ চালিত টমটম ও রিকসা। লোকজনের পদচারণাও ছিল অন্যান্য দিনের চাইতে কম। মোড়ে মোড়ে পুলিশের অবস্থান ছিল সু-সংসত। অঘটন ঠেকাতে শহরে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। টহল পুলিশের পাশাপাশি তৎপর ছিল গোয়েন্দা পুলিশও।
সরেজমিন ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মৌন পিকেটিংয়ের মধ্যদিয়ে দোকান-পাট গুলো ছিল সকাল থেকে বন্ধ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করার চেষ্টা করলেও ক্রেতা না থাকায় তাতেও নেমে আসে স্থবিরতা। শহরে আধিপাত্য বজায় রাখতে কয়েক দফা বিক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে মিছিল সমাবেশ করে স্থানীয় আওয়ামী অঙ্গ সংগঠন। এসব বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম ও পৌর সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু।
এদিকে শহরের বাইরে স্থানীয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে পিকেটিং করার খবর পাওয়া গেছে। সে সাথে হাতছানি দেয় অগ্রিম বর্ষা। শেষ বিকেলে সন্ধ্যার আগমুহুর্তে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। সবমিলিয়ে বৈরি আবহাওয়ায় হরতালের ১ম দিন অতিবাহিত হয় স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আগেরদিন সন্ধ্যায় উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রশবিরের উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। মিছিলটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলোত্তর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বরোচিত গুলীবর্ষণ ও হামলা চালিয়ে ২৫মার্চের কালো রাত্রির চেয়েও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। যা কোন সভ্য দেশে কাম্য নয়। এ নির্মম ঘটনার বিশ্বব্যাপি চরমভাবে ধিক্কার জানাচ্ছে। এ আওয়ামী সরকার নেতাকর্মীদেরকে নির্বিচারে গুলী করে হত্যার পর শতশত লাশ গুম করেছে। এর জবাব একদিন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকেও আসবে এবং জনগণও এর সমুচিত জবাব দেবে। বক্তারা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইনসহ সকল জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে সরকার পতনে একদফা আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দেয়া হবে। তারা জনগণকে আজ বৃহস্পতিবারের হরতালও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনে সহযোগিতা কামনা করেন। পৌরসভা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহেদ উদ্দিন রাজুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি আসহাব উদ্দিন আসাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা সভাপতি বাহাদুর, জামায়াত নেতা মাওলানা জামাল, সৈয়দ মুহাম্মদ রাসেল, ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলম, সাবেক ছাত্রনেতা নাছির উদ্দিন, জমির উদ্দিন, পৌরসভা সেক্রেটারি হাসান মুনিরী, ছাত্রনেতা হোবাইব আজম, মুছা ইবনে হোছাইন প্রমুখ।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।