বিজিবি মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারের মন্তব্য জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়:বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনার ৫ মে মতিঝিলের অভিযান নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় ।

তিনি বলেন, ‘সে দিন কাদের হাতে অস্ত্র ছিল এবং কারা গুলি করেছে তা দেশের মানুষজানে। সুতরাং তারা যা বলেছে দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না।’ বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ১৮ দলের দুদিনের হরতালের প্রথম দিনের শেষের দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন,  ‘তারা যা (বিজিবি মহাপরিচালক ও ডিএমপি কশিমনার) বলেছেন, সেটা কি নিজ বিশ্বাস থেকে বলেছেন নাকি ওপরের চাপে তা আমরা জানি না।’

প্রসঙ্গত, ৫ মে গভীর রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে শত শত হেফাজত কর্মীর লাশ গুমের বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনার।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘৫ মে রাতে কত রাউন্ড গুলি করা হয়েছে? বাতি নিভিয়ে দিয়ে গভীর রাতে কেন অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে? কারা এর নেতৃত্ব দিয়েছে জাতি তা জানতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় যারা হাসি হাসি করেছেন, তাদের বলবো- দ্রুত ঘটনার প্রেসনোট প্রকাশ করুন।’

আলটিমেটাম প্রসঙ্গে দুদু বলেন, ‘আমাদের আলটিমেটাম শেষ হয়ে যায়নি। আলটিমেটাম দেওয়ার পর এই রকম হত্যাকাণ্ড ঘটবে তা কি কেউ জানতো? চলমান হরতাল কর্মসূচি শেষে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।’ সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৫ মে রাতে ঢাকাবাসী হেফাজতের সমাবেশে পানি ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু গোলাগুলির কারণে তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’

‘খালেদার জিয়ার মতো প্রধানমন্ত্রী ঢাকাবাসীকে যদি একই আহ্বান জানাতো, তাহলে শেখ হাসিনার মানবিকতাবোধ ফুটে ওঠতো’ বলেন বিএনপির মুখপাত্র।

মতিঝিলের ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ১৪ দলের নেতাদের এমন হুঁশিয়ারির জবাবে তিনি বলেন, ‘কাদের হাতে সে দিন অস্ত্র ছিল, তা বিবেচনা করে মন্তব্য করলে ভালো হয়।’

এ সময় দুদু জানান, দুদিনের হরতালের প্রথম দিন বুধবার হরতাল পালনকালে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিএনপির ১০৭ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ২১১ বেশি আহত হয়েছে।

এছাড়াও সোমবার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের হাতে বিএনপির ১৫ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি অর্থ-বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন জসিম, বেলায়েত হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আক্রামুজ্জামান টোকন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।