‘রং জাস্টিস। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না: কামারুজ্জামান

ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে অন্যায় বলে আখ্যা দিয়েছেন জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান । তিনি বলেছেন, ‘এটি ভুল (রং জাস্টিস) বিচার।’ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় চেয়ারম্যান বিচারক ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১ ও ৭ নং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন, ২ নং অভিযোগে ১০ বছর এবং ৩ ও ৪ নং অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং ৫ ও ৬ নং অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় তাকে খালাস দেয়া হলো।’

রায়ের পর কামারুজ্জামান আদালতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রং জাস্টিস। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। একদিন সবাইকে এই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

এ সময় তার পাশে ছিলেন বড় ছেলে হাসান ইকবাল ও কনিষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবী।

এর আগে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারক এটিএম ফজলে কবিরের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২১ মিনিটে রায়ের সারসংক্ষেপের প্রথম অংশ পড়েন সদস্য বিচারক শাহীনুর ইসলাম।

এর আগে কড়া নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সেখানের হাজতখানা থেকে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় নেয়া হয়।

এ সময় কামারুজ্জামান হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করেন। কালো প্যান্ট আর সাদা শার্টের ইন করা এই জামায়াত নেতাকে বেশ পরিপাটি দেখা যায়।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এজলাসের আসন নেন। তবে সেদিকে কামারুজ্জামানকে কোনো খেয়াল করতে দেখা যায়নি। রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ার সময়ও সেদিকে কোনো খেয়াল করতে তাকে দেখা যায়নি। তিনি আপন মনে শুধু কোরআন পড়ছেন।

বিচার কিংবা এ নিয়ে শাস্তি হতে পারেন এমন কোনো ছাপ তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।