বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল আসছে ১৮ দলের

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সোমবারের সমাবেশ থেকে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকতে পারে । দলীয় সূত্রে জানা গেছে জোটের পক্ষ থেকে হরতালের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে । নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল, সরকারকে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান ও ৫ মে রাতে মতিঝিলে  ‘গণহত্যা’র প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশ হবে। সমাবেশের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও রোববার বিকেল পর্যন্ত মৌখিক কিংবা লিখিত কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। তবে অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার কথা বলেছেন জোটের নেতারা।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে রাজধানীর মতিঝিলে অনুষ্ঠিত ১৮ দলের সমাবেশ থেকে নির্দলীয় সরকার পুনর্বহালে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। কিন্তু আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ৫ মে রাতে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

সে কারণে আলটিমেটামের সময় শেষ হলেও নতুন কর্মসূচি দিতে পারেনি ১৮ দল। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও জোটের কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কর্মসুচি ঠিক করেন খালেদা জিয়া।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সংবাদ সম্মেলনে সোমবারের সমাবেশের কথা জানান। একই সঙ্গে এই সমাবেশ থেকেই নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ১৮ দলের কর্মসূচি হলেও শরিক দলগুলোর নেতারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির সভা শেষে ১৮ দলের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হলেও জোটের অনেক নেতা বৈঠকের কথা জানেন না বলে নতুন বার্তা ডটকমকে জানিয়েছেন। পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

জোটের একজন শীর্ষ নেতা রোববার বিকেলে  বলেন, “কর্মসূচি নির্ধারণী সভার কথা আমাদের অনেককে বলা হয়নি। সমাবেশের বিষয়েও এখন পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি।”

জোটের নেতাদের এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, মহানগর সদস্যসচিব আবদুস সালাম ছাড়া জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ইসলামিক পার্টির অ্যাডভোকেট আবদুল মবিন।

রোববার বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর কাছে সোমবারের সমাবেশ ও কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, “সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়েছি।এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছূ জানানো হয়নি। আশা করি, সমাবেশের অনুমতি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবে প্রশাসন। সমাবেশ থেকেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

কী কর্মসূচি আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সমাবেশে বাধা না দিলে কর্মসূচির পরিবর্তনও হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।