দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন । ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে লন্ডনে যান তিনি। দীর্ঘ নীরবতার পর স্থানীয় সোমবার লন্ডনে এক সভায় আবারো সক্রিয় হওয়ার আভাস দিলেন তারেক রহমান। কিছুদিন আগে সৌদি আরবে ওমরা করতে গিয়ে সেখানেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

লন্ডন থেকে তানভীর আহমেদ জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে পূর্ব লন্ডনের ডকল্যান্ড ক্রাউন প্লাজা হোটেলে  তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দলের একটি সভায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করার পরপরই বিবদমান গ্রুপগুলোর কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সভা বন্ধ করে দেয়। পরে ভিন্ন ভেন্যুতে  পণ্ড হয়ে যাওয়া সভাটি সমাপ্ত করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে সভা শুরু হয়ে তা চলে রাত আনুমানিক ২টা পর্যন্ত।

দলের বৃটেন শাখার বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নেতৃস্থানীয় কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃটেন বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। নিউহ্যাম বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস আলমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতাসহ দেড় শতাধিক নেতা বক্তব্য দেন। স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য দীর্ঘক্ষণ মনযোগ দিয়ে শোনেন তারেক রহমান।

সমাপনী বক্তব্যে তারেক বলেন, “দেশ আজ স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। জনগণ আজ নিরাপত্তাহীন, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করে দিতে বাকশালী কায়দায় সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দলীয়করণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরব হলেই সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসছে হত্যার খড়গ।”

তারেক রহমান বলেন, “ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। একটি শীর্ষ পত্রিকার কয়েক হাজার পাঠকের ওপর করা জরিপে প্রমাণ হয়েছে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চায়। কিন্তু সরকার জনমতের প্রতি কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই এক তরফা নির্বাচনের দিকে হাঁটছে বলেই মনে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জনগণের প্রয়োজনেই বিএনপি’র জন্ম হয়েছিল। সুতরাং এই জনগণের প্রয়োজনেই দলকে সুসংগঠিত করে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরোদ্ধে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে দিতে হবে সারা দেশে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ব্রিটেনে দলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।