চার সিটিতেই ১৮দলের প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়

দেশের চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট প্রত্যেকটিতে প্রতিদন্ধী ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থীত প্রার্থী থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ঐতিহাসিক ভাবে জয় ছিনিয়ে নেয়।
ফলাফল নিচে উল্লেখ করা হলো :

সিলেট
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন ১৮ দল সমর্থীত আরিফুল হক চৌধুরী। সিটির ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, আরিফুল হক (টেলিভিশন) পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৩০ ভোট। অন্যদিকে, ১৪ দল-সমর্থিত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (আনারস) পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৭৩ ভোট। ভোটে ব্যবধান ৩৫ হাজার ১৫৭ ভোটে।

বরিশাল
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১৮ দল-সমর্থিত আহসান হাবিব কামাল। সিটির ১০০টি কেন্দ্রের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, আহসান হাবিব কামাল (আনারস) পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৭৮ ভোট। অন্যদিকে, ১৪ দল-সমর্থিত শওকত হোসেন হিরন পেয়েছেন (টেলিভিশন)৬৩ হাজার ৭৪১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২০ হাজার ৩৭। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন দোয়াত-কলম মার্কায় এক হাজার সাত ভোট পেয়েছেন।

দুই লাখ ১০০ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৩২৬ জন।

খুলনা
খুলনাবাসী তাদের নতুন নগরপিতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ১৮ দল সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনিকে। শনিবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন ১৪ দল সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেককে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে মনিকে বেসরকারিভাবে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

রাজশাহী
রাজশাহীতেও বিজয়ী হয়েছেন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ নিয়ে শনিবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সিলেট, বরিশাল ও খুলনার পর রাজশাহীতেও জয় পেলো বিরোধী জোটের প্রার্থীরা।
শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বুলবুলকে আগামী ৫ বছরের জন্য রাজশাহী সিটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে মোট ১৩৭ কেন্দ্রে বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩৮৯ ভোট। তাদের মধ্যে ব্যবধান ৪৮ হাজার ৩৮০ ভোট।

শনিবার সকাল আটটায় শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট নেয়া হয় এই চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। ভোট চলাকালে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
চার সিটি নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অনেকটা প্রভাব অনুভব করা গেছে। ভোট নেয়ার সময় ছিল উৎসবের আমেজ।দলীয়ভাবে প্রার্থী না দিলেও প্রধান দলগুলো তাদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সরব ভূমিকা পালন করছে। ভোট প্রদানের হারও ছিল সন্তোষজনক।

এদিকে, নির্বাচনে কারচুপি ও ফলাফল পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রধান বিরোধ দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট বিএনপির অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে এসব ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ আখ্যায়িত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবার চার সিটিতে ১২ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। চার সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১২ জন মেয়রপ্রার্থী।

গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ চারটি সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১২ মে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৫ ও ১৬ মে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৬ মে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।