জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করছে: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেছেন, জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করছে। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতেই অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাঙলা ভাষার ওপর প্রথম যে আঘাত আসে, আওয়ামী লীগই তার প্রতিবাদ করে। এরপর এ দলটিই দেশের স্বাধীনতা এনে দেয়।”

বাংলাদেশের যাবতীয় অর্জন আওয়ামী লীগের দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ’ শব্দটিও প্রথম উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আওয়ামী লীগের জন্মদিন ২৩ জুনের সঙ্গে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৫৭ পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। আর নতুন করে স্বাধীন করার জন্য ১৯৪৯ সালের এই দিনেই আওয়ামী লীগের  জন্ম হয়”

তিনি বলেন, “পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং এরপর ওই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরে অনেকেই ধারণা করেছিল, আওয়ামী লীগ আর কখনোই বোধ হয় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেব না। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। এ কারণেই ২১ বছর পরে  দলটি আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। ক্ষমতায় আসে। অনেক সংগ্রামরে মধ্য দিয়ে জনগণের ক্ষমতা  জনগণের জহাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”

যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে দেশের মানুষকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে দেশের মানুষ কিছু পেয়েছে। ভাষার অধিকার পেয়েছে। আওয়ামী লীগের কারণেই ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি  পেয়েছে। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় হয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্র বিজয় হযেছে। আগামীতে ক্ষমতায় এলে ভারতের কাছ থেকেও সমুদ্র সীমা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এবং আমীর হোসেন আমুও বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগের জন্ম না হলে আজও এদেশের মানুষ পাকিস্তানের দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী থাকত উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আওয়ামী লীগের অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আওয়ামী লীগের অর্জন মায়ের ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা।” আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এদেশের মানুষ এখনো পাকিস্তানের দাসেত্বর শৃঙ্খলে বন্দী থাকত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তোফায়েল বলেন, “বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল জাতিতে পরিণত হয়েছে, ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ। এসবের কৃতিত্ব আওয়ামী লীগের।” তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার না হওয়াকে বাংলাদেশের মানুষের কপালের কলঙ্ক উল্লেখ করে বলেন, এই বিচার কাজ শেষ করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে, আওয়ামী লীগের জন্মদিনে এটিই অঙ্গীকার।

এ বিষয়ে দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্মদিনকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে বলেন, “জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে আসছে।”

তিনি বলেন, “১৫ আগস্টের পরে যারা ক্ষসমতায় এসেছে তারা চার মূলনীতি বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণ করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করে।  বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে আমরা দেশ পেয়েছি। শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে আরেকটি বাংলাদেশের সমান পেয়েছি। দেশকে আবার দ্বিহাজাতি তত্ত্বের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে জনফেডারেশন করার চক্রান্ত চলছে। দেশকে সাম্পদ্রায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে।”


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।