বুধবার ছাত্রশিবিরের সকাল-সন্ধা হরতাল

আগামী ৩ জুলাই বুধবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান ও তাদের আদালতে হাজির এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ জাতীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার এই হরতাল ঘোষণা করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিবির নেতা আজিজুর রহমান, তাজাম্মুল আলী, আব্দুস সালাম, রাজশাহী মহানগরীর অফিস সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম, ইবি শিবির নেতা ওয়ালী উল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস, ঢাকা মহানগরীর উত্তর শিবির নেতা নুরুল আমিন ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিম শাখার নেতা হাফেজ মো.জাকির হোসেনের সন্ধান ও তাদের আদালতে হাজির এবং কেন্দ্রীয় সভপতিসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে এ  হরতালের ডাক দেয়া হয়।

একই দাবিতে গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে শনিবার বিক্ষোভ এবং দাবি আদায় না হলে রবিবার হরতালের ডাক দেয়া হয়। পরে শনিবার বিকেলে আরেক বিবৃতিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়ে রবিবারের হরতাল স্থগিত করা হয়।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আওয়ামী জালিম সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্য নজির স্থাপন করেই চলেছে। শিবির সভাপতিকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন, একইভাবে মিথ্যা মামলায় জাতীয় নেতৃবৃন্দকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে কারা নির্যাতন করেই চলছে।

তিনি বলেন, সরকার ছাত্রশিবির নেতাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অপহরণ করিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির না করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চরম নির্যাতন করছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গত ২৪ জুন অপহরণের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের ছাত্রআন্দোলন সম্পাদক আজিজুর রহমান ও অর্থ সম্পাদক তাজাম্মুল আলী।

এরপর গত ২৬ জুন আবারো বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক আবদুস সালাম ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের শিবির নেতা নুরুল আমিনকে গুলশান থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

একইভাবে রাজশাহী থেকে অপহৃত শিবির নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে অপহরণের ২ মাস ২৪ দিন পেরিয়ে গেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার কোনো সন্ধান দেয়নি।

বছর পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা শাহ মো. ওয়ালি উল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের। নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত সভপাতি হাফেজ মো. জাকির হোসেনের।

শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের ধারাবাহিক আইন পরিপন্থী ও মানবাধিকার লংঘনকারী আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।