ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক গতিতেই হচ্ছে, পাঁচ ঘণ্টায় ৫০ শতাংশ ভোট : ইসি

ভোটগ্রহণে ধীরগতি হচ্ছে বিএনপির  এমন অভিযোগ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক গতিতেই হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোথাও এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি।  তিনি শনিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান।

এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটগ্রহণে ধীরগতিসহ নানা অভিযোগ অনিয়মের করেন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নিবাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। দু-একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিক বলেন, বেলা ১ টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় উপস্থিতি ভালো হয়েছে। একই স্থাপনায় কয়েকটি কেন্দ্র হওয়ায় লাইনও দীর্ঘ হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ভোট কক্ষ থাকায় এ নিয়ে সমস্যা হয়নি।’

সাদিক বলেন, সব জায়গাতেই বিকেলে ভোটার উপস্থিতির হার বেশি থাকে। আর গাজীপুরে যে অবস্থা চলছে দিন শেষেও তা অব্যাহত থাকলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট কাস্ট হবে বলে আমরা ধারণা করছি।

নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে ক’টি অভিযোগ এসেছে তার সত্যতা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

এ সময় সচিব জানান, একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছেঁড়া ও আরেকটি কেন্দ্রে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়ার লিখিত অভিযোগ ইসিতে এসেছে।

বিএনপির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশন এসব অভিযোগ এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যক্ষণ করছে বলে।

সাদিক বলেন, ‘কোথাও কোনো গোলযোগ হয়নি। দীর্ঘ লাইন নিয়ে বেশ উৎসাহেই ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।’

এদিকে, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে দাবি করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মতিউর রহমান আরটিএনএন- কে বলেছেন, ‘প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬১ জন এবং পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন।

ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সমর্থিত দুই প্রার্থীসহ মোট সাতজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৫৬ জন এবং সংরক্ষিত ১৯ কাউন্সিলর পদে ১২৮ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।