সংবিধান থেকে এক চুলও নড়া হবে না:প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সংবিধান থেকে এক চুলও নড়া হবে না। “জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি। আগামী ২৫ অক্টোবরের পর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলে যে কথা তারা বলছে, তা সত্য নয়। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোই নেই।”

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনের আগে সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না- এমন প্রশ্ন করেছিলেন ওই সাংবাদিক।

এ সময় শেখ হাসিনা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা কী চান? আবার অসাংবিধানিক কেউ আসুক সেটা চান? ২০০৭-০৮ সালের কথা কি ভুলে গেলেন? উচ্চ আদালতের রায়ে এটা বাতিল হয়েছে। এটা নিয়ে তো কোনো তর্ক-বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। আমরা আপনাদের আলোর পথে নিতে চাই। কিন্তু আপনারা যদি অন্ধকারে যেতে চান, তাহলে কিছুই করার নেই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাংবিধানিভাবে দেশ পরিচালিত হচ্ছে এবং সে মোতাবেকই নির্বাচন হবে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০১ সাল ছাড়া শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি আর কখনো। কিন্তু এবার যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটতে পারে, দেশে যেন কোনো অসাংবিধানিক কেউ ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, সেখানে কীভাবে নির্বাচন হয় তা অনুসরণ করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, সেভাবেই দেশে নির্বাচন হবে।’’

বর্তমান সরকারের আমলে সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “পাঁচ হাজার ৭২৩টি নির্বাচন হয়েছে। ৬৩ হাজার ৯৪১ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো নির্বাচন নিয়ে কোনোরকম কারচুপির কথা কেউ বলতে পারেনি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌর, সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। আমরা যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, তা প্রমাণ করেছি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী দল জিতেছে। কিন্তু তারা নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গে নিয়ে বলে, এ সরকারের আমলে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে তিনি জিতলেন কীভাবে। আসলে মিথ্যা বলা তাদের মজ্জাগত অভ্যাস।”

বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচন হবে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে, যাতে আর কেউ অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখল করতে না পারে।”

তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আমরা সরকার গঠন করি। বর্তমান মেয়াদে চার বছর আট মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে, সে জন্য ‘রূপকল্প ২০২১’ তৈরি করা হয়েছে। কারণ, ওই বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। সে সময় বাংলাদেশ অন্তত মধ্যম আয়ের একটি দেশ হবে, এই ছিল লক্ষ্য। অনেক ক্ষেত্রেই সে লক্ষ্যের দিকে সফল হয়েছে সরকার।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।