দাবি আদায়ে ২৫ অক্টোবর অপেক্ষা, এরপর যা হবার হবে: খালেদা

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে চলতি সংসদ অধিবেশনের শেষদিন ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল করা না হলে ২৫ অক্টোবর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে। দাবি আদায়ে এরপর যা হবার হবে।’ সোমবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে ১৮ দল আয়োজিত জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এ সময় দেশ ও জনগণের বিপক্ষে সরকারের অন্যায় আদেশ না মানতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ আর তিন মাস। এখন আপনারা সরকারের অন্যায় আদেশ মানবেন কেন?’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকারের এখন মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই তারা কোনো কিছু ভ্রুক্ষেপ করছে না। তবে তারা যে অপকর্ম করেছে, এজন্য তাদেরকে বিদায় নিতেই হবে।’

নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে শক্তভাবে কথা বলুন। আজ্ঞাবহ হয়ে থাকলে জনগণ আপনাদেরকেও বিদায় করবে।’

বিএনএফ-কে নিবন্ধন দেয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘নিয়ম-নীতি না মেনে বিএনএফ-কে নিবন্ধন দিলে পরিণতি ভালো হবে না। তাদেরকে ধানের শীষের মতো দেখতে গমের শীষ প্রতীক দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা কি মামাবাড়ির আবদার?’

শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির লোক অভিযোগ দিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসানকে আপনারা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান মানেননি। সুতরাং একটি দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে মানার প্রশ্নই উঠে না।’

সংবিধান মানুষের জন্য মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তো সংবিধানে ছিল। তাই আওয়ামী লীগ যেভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করেছে, সেভাবে তা পুনর্বহাল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে কেউ নির্বাচনে যেতে চায় না। ছোট ছোট দলও নির্বাচনে যেতে রাজি নয়। এজন্য পরজীবী দল সৃষ্টি নির্বাচন আয়োজনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যাদের একটি অফিস নেই, ১০ জন লোক নেই।’

আওয়ামী লীগই সন্ত্রাস করে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিশ্বজিতকে আওয়ামী লীগের লোকজনই হত্যা করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাতে অস্ত্র-বোমা। তাদের এখনই দমন না করলে ভবিষ্যতে রেহাই দেয়া হবে না।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি-লুটপাট করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংককে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এই ক্ষতি কাটাতে আরো ৩০৯ বছর লাগবে। পাঁচটি সরকারি ব্যাংক লুটপাটের কারণে ধ্বংস হওয়ার পথে।’

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নতুন ধারার সরকার গঠন করবে জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। দুর্নীতি, লুটপাট ও মাদক প্রতিরোধ করা হবে। নিরপেক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় তরুণ ও নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান করবে। বর্তমানে আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগ আবার ফেরত আনা হবে। বেসরকারি খাতেও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘১৮ দল সরকার গঠন করলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। দলীয় পরিচয়ে কোনো নিয়োগ দেয়া হবে না।’

চাকরিতে কোটাপ্রথা সংস্কার করা হবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দলীয় লোকজন নিয়োগ দিতে বর্তমানে বিশাল কোটা (৫৫ ভাগ) রাখা হয়েছে। ১৮ দল ক্ষমতায় গেলে কোটা একেবারে বাদ দেবে না, তবে তা ১০-১৫ ভাগে নামিয়ে আনা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।’

এ সময় সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আওয়ামী লীগ হটানোর কর্মসূচি সফল করার জন্য রাজশাহীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।