সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৯টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায়  দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধ হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

 সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা ২৩টি অভিযোগগুলোর মধ্যে নয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে ১৭২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনানো হয়। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হাজির করা হয়। মামলার কার্যক্রম সমাপ্তির প্রায় দেড় মাস পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।

গত ১৪ আগস্ট এ মামলার কার্যক্রম শেষে যেকোনো দিন রায় দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রেখে দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে চলা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি হলো।

গত ১৪ আগস্ট সকাল থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী এএইচএম আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও জেয়াদ আল মালুম যুক্তি উপস্থাপন করেন।

গত ২৮ জুলাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ৩১ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রথম পর্যায়ে শেষ করে প্রসিকিউশন।

এরপর ১ আগস্ট থেকে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী হেনা।

গত ২৪ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীরর বিরুদ্ধে মামলায় আসমিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি নিজেসহ মোট চারজন। অন্য তিন সাফাই সাক্ষী হলেন তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু নিজাম আহমেদ, এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন চৌধুরী।

এর আগে সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের মোট ৪১ জন সাক্ষী। আর চারজন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া অন্য চার সাক্ষী মৃত জ্যোৎস্না পাল চৌধুরী, মৃত জানতি বালা চৌধুরী ও মৃত আবুল বশর এবং ভারতে থাকা বাদল বিশ্বাসের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

হরতালে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আটক করা হয় বিএনপির সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। পরে ১৯ ডিসেম্বর তাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো  আদালতে হাজির করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগে গত বছরের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিএনপি নেতার বিচার শুরু হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।